নিজস্ব প্রতিবেদক
দুই ব্যক্তির সঙ্গে কুয়াকাটা যেতে চাপ, নির্যাতনের অভিযোগ, ভোরে ভাড়া বাসা থেকে ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার। বরিশাল নগরে স্বামীর অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় এক সন্তানের জননী গৃহবধূর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। শনিবার ভোরে নগরীর পলাশপুর এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত গৃহবধূর নাম মোসা. ময়না (৩০)। তিনি একই এলাকার ভাড়াটিয়া মো. রুবেলের দ্বিতীয় স্ত্রী বলে জানা গেছে। পরিবারের অভিযোগ, স্বামী রুবেলের চাপ ও নির্যাতনের কারণে ময়না আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের ছোট বোন মোসা. সাথী জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় ময়নার সঙ্গে তার মোবাইল ফোনে কথা হয়েছিল। সে সময় ময়না তাকে বলেন, তার স্বামী রুবেল তাকে দুই অজ্ঞাত ব্যক্তির সঙ্গে কুয়াকাটা যেতে বলেছিলেন। কিন্তু তিনি এতে রাজি না হওয়ায় তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়। সাথীর ভাষ্য, আমার বোন কখনো এমন কাজে রাজি হওয়ার মানুষ না। সে না করায় ওর ওপর অত্যাচার করা হয়েছে। আমরা মনে করি, এই চাপ ও নির্যাতনের কারণেই সে আত্মহত্যা করেছে।”
এদিকে স্থানীয়দের মধ্যেও এ ঘটনায় নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকে বিষয়টিকে পরিকল্পিতভাবে আত্মহত্যায় প্ররোচনার দিকেও ইঙ্গিত করছেন। বরিশাল নগর পুলিশের কাউনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সঞ্জিত চন্দ্র নাথ জানান, প্রাথমিকভাবে এটি পারিবারিক কলহের জেরে আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে অনৈতিক কোনো প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে বিরোধের বিষয়টিও গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করে মরদেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। একই সঙ্গে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ দায়ের করা হলে বিষয়টি আরও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক।