ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি:
ময়মনসিংহের নান্দাইল মডেল থানায় পরকীয়া প্রেম, টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার আত্মসাৎ এবং মারধরের অভিযোগে চারজনের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী এক স্বামী। গত ৪ জুলাই বিকেলে নান্দাইল থানাধীন কানারামপুর/ দত্তপুর এলাকায় এই মারধরের ঘটনাটি ঘটে।
অভিযোগকারী ব্যক্তি হলেন নান্দাইল ইউনিয়নের রসুলপুর নদীপাড় এলাকার মৃত তাহের উদ্দিন ভূঁইয়ার ছেলে মো. নজরুল ইসলাম (৪৫)।
অভিযুক্তরা হলেন, নজরুল ইসলামের স্ত্রী সুরাইয়া আক্তার (৪০), শাশুড়ি ফিরোজা খাতুন (৬৫), শ্যালক আল আমিন (২৬) এবং রসুলপুর এলাকার পার্শ্ববর্তী সাকিনের বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন (৪৫)। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২০ বছর পূর্বে ইসলামী শরীয়া মোতাবেক সুরাইয়া আক্তারের সাথে নজরুল ইসলামের বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে একটি ছেলে ও একটি মেয়ে সন্তান রয়েছে। গত দুই বছর ধরে ৪নং আসামি আনোয়ার হোসেনের সাথে সুরাইয়া আক্তারের পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে। আনোয়ার হোসেনের বাড়িতে যাতায়াত নিয়ে নজরুল ইসলাম বারবার নিষেধ করলে সুরাইয়া আক্তার ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে বিভিন্ন হুমকি-ধমকি প্রদান করতেন। একপর্যায়ে সুরাইয়া আক্তার স্বামীর সংসার না করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ঘর থেকে নগদ ৫,০০,০০০ (পাঁচ লক্ষ) টাকা এবং ২,১০,০০০ (দুই লক্ষ দশ হাজার) টাকা মূল্যের স্বর্ণালঙ্কার আত্মসাৎ করেন। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ১নং আসামি সুরাইয়া আক্তার ও ৪নং আসামি আনোয়ার হোসেন যোগসাজশ করে ঘর ছেড়ে পালিয়ে যান এবং গত ৪ মাস পূর্বে নিজেরা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে বসবাস শুরু করেন। এই ঘটনা এলাকায় জানাজানি হলে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার ফেরত দেওয়ার জন্য তাগিদ দিলে তারা সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। সর্বশেষ গত ৪ জুলাই বিকেল আনুমানিক ৪:০০ ঘটিকায় নজরুল ইসলাম কানারামপুর/দত্তপুর এলাকায় সুরাইয়া ও আনোয়ারের ভাড়া বাসায় গিয়ে নিজের টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার ফেরত চাইলে অভিযুক্তরা তাকে এলোপাতাড়ি মারপিট করে এবং খুন-জখমের হুমকি দিয়ে তাড়িয়ে দেয়। পরবর্তীতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সাথে আলোচনা করে থানায় এসে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে ভুক্তভোগী। এই বিষয়ে নান্দাইল মডেল থানা পুলিশ জানায়, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তীতে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।