নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরের অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়া পৌরসভার চেঙ্গুটিয়া এলাকায় দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামী যশোর জেলা আমির মো. গোলাম রছুল। কোমরসমান পানিতে নেমে সরেজমিনে এলাকাবাসীর খোঁজখবর নেওয়া এবং তাদের মাঝে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসার সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার সকালে চেঙ্গুটিয়া বুড়োর দোকান-সংলগ্ন জলাবদ্ধ এলাকায় পরিদর্শনে যান এমপি গোলাম রছুল। গাড়িতে বসে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ না করে তিনি সরাসরি পানিতে নেমে পড়েন। পানিবন্দী মানুষের ঘরে ঘরে গিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলেন, শোনেন দুর্ভোগের বাস্তব চিত্র এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেন। পরবর্তীতে তাঁর উদ্যোগে জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় দুই শতাধিক পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রীসহ ত্রাণ বিতরণ করা হয়। ত্রাণসামগ্রীর মধ্যে ছিল চাল, ডাল, তেল, শুকনো খাবারসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন উপকরণ।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এমপি গোলাম রছুল বলেন, জলাবদ্ধতা সমস্যাটি দীর্ঘদিনের। বিষয়টি ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর নজরে আনা হয়েছে এবং জাতীয় সংসদেও উত্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু এখনো আশানুরূপ কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। তাই মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে আমরা নিজেদের উদ্যোগে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছি। তিনি আরও বলেন, মজুমদার অটো রাইস মিলের অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং ইপিজেড নির্মাণের সময় পানি চলাচলের স্বাভাবিক পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই এলাকার জলাবদ্ধতা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। দ্রুত ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন না হলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। পরিদর্শনকালে কয়েক ঘণ্টা পানির মধ্যে অবস্থান করে স্থানীয়দের সমস্যা ও অভিযোগ শোনেন তিনি। এ সময় এলাকাবাসী দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে স্থায়ী সমাধানের জন্য দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানান। স্থানীয়রা জানান, টানা বৃষ্টি হলেই এলাকায় পানি জমে থাকে সপ্তাহের পর সপ্তাহ। এতে ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট ও ব্যবসা-বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামী যশোর জেলা শূরা সদস্য মশিউর রহমান, অভয়নগর উপজেলা আমির সরদার শরিফ হোসেন, উপজেলা সহকারী সেক্রেটারি গোলাম মোস্তফা, পৌর জামায়াতের আমির মাওলানা আলতাফ হোসাইন, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের উপজেলা সভাপতি নুরুল ইসলাম বাবুল, প্রেমবাগ ইউনিয়ন আমির সুলাইমান কবীরসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, সাময়িক ত্রাণ সহায়তার পাশাপাশি দ্রুত সময়ের মধ্যে জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।