নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরের অভয়নগরের নওয়াপাড়া এলাকার অদম্য মেধাবী ছাত্র মাহমুদ হোসেন প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় কৃতিত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জন করে এলাকায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। সীমিত সুযোগ-সুবিধা ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তার এই অর্জন এখন অনেক শিক্ষার্থীর জন্য অনুপ্রেরণার গল্প হয়ে উঠেছে। জানা গেছে, মাহমুদ নওয়াপাড়া মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তার সাফল্যের পথ মোটেও সহজ ছিল না। প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা আয়োজন নিয়ে দীর্ঘদিন অনিশ্চয়তা থাকায় প্রস্তুতির ধারাবাহিকতা ব্যাহত হয়। প্রায় দুই মাস সময় নষ্ট হওয়ার পরও সে হাল ছাড়েনি। এর পাশাপাশি সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ৮০ শতাংশ এবং বেসরকারি বিদ্যালয়ের জন্য মাত্র ২০ শতাংশ বৃত্তি নির্ধারণ করায় প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হয়ে ওঠে।
এদিকে মাহমুদ তখন ষষ্ঠ শ্রেণির নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি সপ্তম শ্রেণিতে ক্যাডেট কলেজে ভর্তির প্রস্তুতি নিচ্ছিল। পড়াশোনার এমন চাপের মধ্যেও হঠাৎ করে বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ছিল তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তবুও নিজের দৃঢ় মনোবল, কঠোর পরিশ্রম এবং সময় ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সে সব বাধা অতিক্রম করে। মাহমুদের এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে তার নিরলস পরিশ্রমের পাশাপাশি শিক্ষকদের আন্তরিক দিকনির্দেশনা এবং পরিবারের অবিচল সমর্থন। তার বাবা মো. জাকির হোসেন একজন স্থানীয় সংবাদকর্মী ও রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী এবং মা একজন গৃহিণী। ছেলের এই অর্জনে পরিবার, শিক্ষক ও সহপাঠীদের মধ্যে আনন্দের বন্যা বইছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা জানান, মাহমুদ সবসময় মনোযোগী, শৃঙ্খলাপরায়ণ এবং স্বপ্নবান একজন শিক্ষার্থী। ক্লাসের পড়াশোনার পাশাপাশি অতিরিক্ত জ্ঞান অর্জনের প্রবল আগ্রহ তার মধ্যে সবসময় লক্ষ্য করা যায়। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে মাহমুদ জানায়, আমি বড় হয়ে একজন দক্ষ পাইলট হতে চাই। আকাশে উড়ার স্বপ্ন দেখি ছোটবেলা থেকেই। দেশ ও মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে চাই। সে তার এই স্বপ্ন পূরণে সকলের দোয়া কামনা করেছে।
নওয়াপাড়ার এই মেধাবী শিক্ষার্থীর অর্জন শুধু তার পরিবারের গর্ব নয়, বরং পুরো এলাকার জন্য একটি অনুপ্রেরণার আলো হয়ে থাকবে।