নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরের অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু পরীক্ষার নামে রোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ডেঙ্গু পরীক্ষা বিনামূল্যে করার কথা থাকলেও বাস্তবে রোগীদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা, এমনই অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। অনুসন্ধানে জানা যায়, হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগে কর্মরত শিরাজুল ইসলাম ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য রোগীপ্রতি ২০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করছেন। যা সরাসরি সরকারি নির্দেশনার পরিপন্থী।
রোগীর অভিযোগ: টাকা না দিলে পরীক্ষা নয়!
ভুক্তভোগী মর্জিনা নামের এক রোগী জানান, ১৫ জুলাই সকালে ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে গেলে তার কাছে ২০০ টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি পরীক্ষা না করিয়েই ফিরে যেতে বাধ্য হন। অভিযুক্ত শিরাজুল ইসলাম দাবি করেন, এখানে দুই ধরনের ডেঙ্গু পরীক্ষা আছে, একটি ফ্রি, অন্যটি ১০০ টাকা। তবে ২০০ টাকা দাবির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিভিন্ন রক্ত পরীক্ষার অজুহাত দেখান, যা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
শুধু প্যাথলজি বিভাগেই নয়, অভিযোগ রয়েছে জরুরি বিভাগেও। বিষপান করা রোগীদের ওয়াশ করার জন্য ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে, যা সম্পূর্ণ বেআইনি।
বর্ষা আক্তার নামে এক রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে ২০০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরে সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে কর্তৃপক্ষ কৌশলে সেই টাকা ফেরত দেয়। সরেজমিনে দেখা গেছে, হাসপাতালজুড়ে দালাল চক্রের বিস্তার রয়েছে। সাধারণ রোগীরা প্রতিনিয়ত হয়রানি ও প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। একাধিকবার গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। স্বাস্থ্যসেবায় বিশৃঙ্খলা ও দুর্নীতির অভিযোগ স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, কিছু অসাধু ব্যক্তি ও প্রভাবশালীদের ম্যানেজ করে হাসপাতালটি এখন অনিয়মের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে। এ বিষয়ে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলিমুর রাজিবের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সার্বিকভাবে, অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করছে। দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।