অভয়নগর প্রতিনিধি
যশোরের অভয়নগরে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প যেন এক ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণে বন্দী। অভিযোগ উঠেছে, আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ ঠিকাদার ওলিয়ার গাজী দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর ধরে উপজেলা প্রকৌশলী অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে টেন্ডার বাণিজ্যের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে আসছেন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলার স্কুল, সড়ক, কালভার্টসহ প্রায় সব উন্নয়নমূলক কাজই এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করে আসছেন এই ঠিকাদার। অভিযোগ রয়েছে, ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে প্রতিযোগিতামূলক টেন্ডার প্রক্রিয়াকে ভেঙে দিয়ে নিজের নিয়ন্ত্রণে এনে কাজ ভাগিয়ে নেওয়া এবং নিম্নমানের নির্মাণের মাধ্যমে সরকারি অর্থ লুটপাটই ছিল তার প্রধান কৌশল। স্থানীয় সূত্র বলছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের পতনের পরও এই সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য কমেনি; বরং আগের মতোই বহাল তবিয়তে চলছে টেন্ডার বাণিজ্য ও অনিয়ম। এতে সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বাঘুটিয়া-সিংগেড়ি-নওয়াপাড়া সড়কের নিমতলা এলাকায় নির্মিত একটি নতুন ব্রিজ দুর্নীতির জ্বলন্ত উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে। মাত্র এক মাসের মধ্যেই ব্রিজটির দুই পাশ ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং তদারকির অভাবেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এই প্রকল্পেও ঠিকাদার ওলিয়ার গাজী এবং উপজেলা প্রকৌশলী অফিসের উপসহকারী প্রকৌশলী কল্যাণ বাবুর যোগসাজশে ‘লোক দেখানো’ নির্মাণকাজের আড়ালে ব্যাপক অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। এ বিষয়ে ঠিকাদার ওলিয়ার গাজী ব্রিজ নির্মাণের কথা স্বীকার করলেও ভেঙে যাওয়ার দায় এড়িয়ে গিয়ে বলেন, বিষয়টি প্রকৌশলী অফিস দেখবে। তবে তিনি নিজের রাজনৈতিক পরিচয় অস্বীকার করেন। অন্যদিকে, উপসহকারী প্রকৌশলী কল্যাণ বাবুর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী আবু সুফিয়ান বলেন, বৃষ্টি ও আবহাওয়ার কারণে এমন সমস্যা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে সচেতন মহল এই ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান করে বলছে, এটি প্রকৃতপক্ষে দুর্নীতির ফল, প্রাকৃতিক কারণে নয়। তারা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের শাস্তি এবং নিম্নমানের কাজের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। অভয়নগরের সাধারণ মানুষের প্রশ্ন এখন একটাই, উন্নয়নের নামে এই লুটপাটের শেষ কোথায়?