নিজস্ব প্রতিবেদক
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে চুরির অভিযোগে এক যুবককে মারধর না করে ব্যতিক্রমী শাস্তি দিয়েছিল এলাকাবাসী, ১০০ রাকাত নফল নামাজ ও তওবা। কিন্তু সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি তিনি। একই দিন রাতেই মাদক সেবন ও বিক্রির অভিযোগে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন ওই যুবক। শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেলে উপজেলার জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের দক্ষিণ সোনাপাহাড় ফকির আস্তানা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গ্রেপ্তার যুবকের নাম মো. ফয়জুল করিম। তিনি মধ্যম সোনাপাহাড় গ্রামের মৃত জয়নাল আবেদীনের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুরে মোবাইল ফোন ও ব্যাগ চুরির অভিযোগে ফয়জুল করিমকে আটক করেন এলাকাবাসী। সাধারণত এমন ঘটনায় গণপিটুনির নজির থাকলেও, এ ক্ষেত্রে ভিন্ন পথ বেছে নেয় স্থানীয়রা।
তাকে মারধর না করে সংশোধনের সুযোগ দিয়ে ১০০ রাকাত নফল নামাজ পড়ানো হয় এবং ভবিষ্যতে অপরাধ না করার জন্য তওবা করিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পরিস্থিতি পাল্টে যায়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে মাদক সেবন ও বিক্রির অভিযোগে তাকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে।
গ্রামের বাসিন্দা আহসান উল্লাহ রাকিব বলেন, চোর যে ধর্মের বাণী শোনে না, তা ফয়জুল প্রমাণ করল। আমরা তাকে ভালো হওয়ার সুযোগ দিয়েছিলাম। কিন্তু সে সেই সুযোগ নষ্ট করেছে, এটা খুবই হতাশাজনক। জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল হালিম জানান, দুপুরে চুরির অভিযোগে স্থানীয়রা তাকে নামাজ পড়িয়ে ছেড়ে দেয়। তবে রাতে মাদক সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার (১৮ জুলাই) আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। একই দিনে সংশোধনের সুযোগ থেকে ‘অপরাধে পুনরায় জড়ানো ফয়জুলের এই ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে যেমন হতাশা তৈরি করেছে, তেমনি প্রশ্ন তুলেছে, শুধু নৈতিক শিক্ষা দিয়ে কি অপরাধ থেকে ফেরানো সম্ভব?