নিজস্ব প্রতিবেদক
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় চাঞ্চল্যকর এক অপহরণ নাটকের অবসান ঘটিয়েছে পুলিশ। মুক্তিপণের উদ্দেশ্যে অপহৃত সাত বছরের শিশু ওয়াসিফা জান্নাত তাসকিনকে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাটি আরও বিস্ময়কর হয়ে ওঠে যখন জানা যায়, এই অপহরণের মূল পরিকল্পনাকারী আর কেউ নন, শিশুটির বাবার মামাতো ভাই ফয়সাল। মঙ্গলবার রাতে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানা-পুলিশের যৌথ অভিযানে ফয়সালের নিজ বাড়ি থেকেই তাসকিনকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় ফয়সালসহ আরও দুই সহযোগী, মো. রাকিব ও জাহাঙ্গীর আলম, কে গ্রেপ্তার করা হয়। অপহরণে ব্যবহৃত একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাও জব্দ করেছে পুলিশ। পুলিশ ও মামলার সূত্রে জানা যায়, গত ২০ জুলাই সকালে দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ার পশ্চিম সরফভাটা এলাকার ইমাম আজম আবু হানিফা (র.) স্কুলে যায় নার্সারির শিক্ষার্থী তাসকিন। স্কুল ছুটির পর এক ব্যক্তি অটোরিকশাচালক পরিচয়ে শিশুটিকে জানায়, তার বাবা হাসপাতালে ভর্তি। বাবার কাছে নিয়ে যাওয়ার প্রলোভনে শিশুটিকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায় অপহরণকারীরা। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও মেয়ে বাড়ি না ফেরায় উদ্বিগ্ন পরিবার দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানায় মামলা দায়ের করে। এরপরই শুরু হয় পুলিশ ও ডিবির যৌথ অভিযান।
সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় তদন্তকারীরা দ্রুত অপহরণের রহস্য উদঘাটন করেন। তদন্তে উঠে আসে, মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যেই পূর্বপরিকল্পিতভাবে এই অপহরণ করেন ফয়সাল। শিশুটিকে লুকিয়ে রাখার সুবিধার্থে তিনি আগে থেকেই নিজের স্ত্রীকে শ্বশুরবাড়িতে পাঠিয়ে দেন। সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্য হলো, নিখোঁজ শিশুর সন্ধানে পরিবারের আয়োজিত বিশেষ দোয়া মাহফিলেও ফয়সাল স্বাভাবিকভাবে অংশ নেন, যেন তিনি কিছুই জানেন না!
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গণমাধ্যম) মো. রাসেল জানান, ফয়সাল মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এই অপহরণ করেন। তিনি পরিচিত কয়েকজন অটোরিকশাচালককে টাকার ভাগ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এ কাজে যুক্ত করেন। মাত্র একদিনের মধ্যে সন্তানকে অক্ষত অবস্থায় ফিরে পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন তাসকিনের মা-বাবা। তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। গ্রেপ্তার তিনজনকেই ইতোমধ্যে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।