নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরের অভয়নগরে শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে অতর্কিত হামলার শিকার হয়েছেন ফারুক হোসেন মোল্লা (৫০) নামে এক ব্যক্তি। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে উপজেলার বাহিরঘাট গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহত ফারুক মোল্লা উপজেলার বনগ্রামের বাসিন্দা এবং বারিক মোল্লার ছেলে। অন্যদিকে, এই ঘটনার জেরে ফারুক মোল্লার স্ত্রী ও তার বোন অভয়নগর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে জমি দখলকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিরোধের কথা তুলে ধরা হয়েছে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বাহিরঘাট মৌজায় প্রায় আড়াই একর জমি বৈধভাবে ক্রয় করে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে ছিলেন মোছাঃ শিরিনা বেগম ও তার বোন মোছাঃ জোসনা বেগম। তারা সরকারি নিয়ম মেনে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের মাধ্যমে জমি ক্রয় করেন এবং নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছিলেন। তবে গত ১০ জুলাই ২০২৬ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধভাবে ওই জমিতে প্রবেশ করে জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা চালায়। অভিযোগে বলা হয়েছে, তারা বসতঘর ভাঙচুর করে এবং কৃষিজমি দখল করে নেয়। বাধা দিতে গেলে শিরিনা বেগম ও তার বোনকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত হিসেবে নাম উল্লেখ করা হয়েছে, মোঃ রিফাত সরদার, মোছাঃ রিক্তা বেগম, মোঃ ইকবাল সরদার ও মঈন মোল্যা। তারা এলাকায় প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন, “আমরা বৈধভাবে জমি কিনে বসবাস করছি। হঠাৎ করেই জোর করে দখল নেওয়ার চেষ্টা এবং প্রাণনাশের হুমকিতে আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। স্থানীয় কয়েকজন সাক্ষীও অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন বলে জানা গেছে।
অভিযোগের জের ধরে বৃহস্পতিবার সকালে অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধভাবে ফারুক মোল্লার শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। ভুক্তভোগীরা দ্রুত ঘটনার তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এদিকে, অভয়নগরে জমি দখল নিয়ে এমন অভিযোগ নতুন নয়। স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় জমি দখলের ঘটনা বাড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা দিন দিন বাড়ছে। এ বিষয়ে অভয়নগর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ নুরুজ্জামান বলেন, অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।