নিজস্ব প্রতিবেদক
খুলনার ফুলতলায় দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় একটি হানিট্র্যাপ ও ব্ল্যাকমেইল চক্রের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। নগ্ন ভিডিও ধারণ করে ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগে কথিত এক সাংবাদিকসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ফুলতলা থানা পুলিশ। আটক ব্যক্তিরা হলেন, সাংবাদিক ও ফুলতলা প্রতিদিন পত্রিকার ক্রাইম রিপোর্টার ও খুলনার খানজাহান আলী থানার মশিয়ালী গ্রামের মৃতঃ আব্দুল ওয়াদুত মিয়ার পুত্র মোঃ সুমন মিয়া ওরফে সাদ্দাম (৩৬), দামোদর গ্রামের আঃ রশিদ জমাদ্দারের কন্যা ঝুমুর জমাদ্দার (৩২) এবং অভয়নগর উপজেলার বৌবাজার এলাকার আঃ মজিদ মোড়লের কন্যা সাবিনা বিশ্বাস ওরফে রিয়া বিশ্বাস (৩০)| পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ফুলতলার জামিরা সড়কের একটি আবাসিক হোটেলের পেছনে ভাড়া বাসা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এই চক্রটি কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। তারা কৌশলে বিভিন্ন এলাকার যুবকদের ফোনে ডেকে এনে নারী সহযোগীদের মাধ্যমে অন্তরঙ্গ পরিবেশ তৈরি করত। এরপর গোপনে সেই মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করত। বুধবার (২৯ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে যশোর সদর উপজেলার ইয়াপুর গ্রামের বাসিন্দা ও একটি ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি মিলন হোসেনকে ফাঁদে ফেলা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ঝুমুর জমাদ্দার তাকে ডেকে এনে সাবিনা বিশ্বাসের কক্ষে প্রবেশ করান। আগে থেকেই ওৎ পেতে থাকা সুমন মিয়া তার সহযোগীকে নিয়ে অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করেন। এরপর মিলন হোসেনকে মারধর করে ভয় দেখিয়ে তার কাছ থেকে ১ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। ভুক্তভোগীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে অভিযুক্তদের আটক করে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মিলন হোসেন বাদী হয়ে ফুলতলা থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় আরও কয়েকজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। অভিযুক্ত সুমন মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, তিনি সংবাদ সংগ্রহের জন্য ঘটনাস্থলে গিয়ে ভিডিও ধারণ করেছেন এবং তা সামাজিক মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এই চক্রের কারণে এলাকার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছিল। অনেক যুবক ব্ল্যাকমেইলের শিকার হলেও সামাজিক সম্মানের ভয়ে মুখ খুলতেন না। তারা জানান, এ বিষয়ে একাধিকবার অভিযোগ দেওয়া হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। চক্রটির সদস্যরা আটক হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে জামিরা সড়ক এলাকায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে। এ সময় এলাকাবাসী আনন্দ মিছিল বের করে এবং মিষ্টি বিতরণ করে সন্তোষ প্রকাশ করেন।