নিজস্ব প্রতিবেদক
অনলাইন জুয়া ও পর্নোগ্রাফির ভয়াবহ আসক্তিতে উন্মত্ত হয়ে ওঠা ছেলের নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে অবশেষে নিজের সন্তানের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন এক অসহায় বাবা। প্রতিদিন জুয়ার টাকার জন্য চাপ, ঘরে ভাঙচুর এবং মায়ের ওপর হামলার অভিযোগে ছেলে আজিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন দিনমজুর তরিকুল ইসলাম।
রোববার (২ আগস্ট) যশোরের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়। ঘটনাটি যশোর সদর উপজেলার দৌলতদিহি গ্রামে। অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে বিচারক সঞ্জয় পাল মামলাটি আমলে নিয়ে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, তরিকুল ইসলাম পেশায় একজন দিনমজুর। তার ছেলে আজিম উদ্দিন কোনো কাজকর্ম না করে দীর্ঘদিন ধরে মোবাইলে আসক্ত হয়ে পড়ে। প্রথমদিকে বিষয়টি সাধারণ মনে হলেও পরে বাবা-মা বুঝতে পারেন, আজিম অনলাইন জুয়া ও পর্নোগ্রাফিতে মারাত্মকভাবে জড়িয়ে পড়েছে। এরপর থেকেই বদলে যেতে থাকে তার আচরণ। জুয়ার টাকা জোগাড় করতে প্রতিদিন বাবা-মায়ের কাছে ১ হাজার টাকা দাবি করতে থাকে সে। অভাবের সংসারে এ টাকা জোগাড় করতে ব্যর্থ হলে শুরু হয় তার তাণ্ডব—ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর, অশ্রাব্য গালিগালাজ এবং শারীরিক নির্যাতন। সর্বশেষ গত ১৫ জুলাই বিকেলে আবারও টাকা দাবি করে আজিম। এ সময় অসহায় বাবা তরিকুল ইসলাম টাকা দিতে অপারগতা জানালে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে সে। একপর্যায়ে ঘরের বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুর শুরু করে। বাধা দিতে গেলে মা বিউটি বেগমকে মারধর করে এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। পরে ঘরে গচ্ছিত থাকা কষ্টার্জিত ৫ হাজার টাকা জোরপূর্বক নিয়ে পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সমাধানের চেষ্টা করা হলেও কোনো ফল মেলেনি। বরং দিন দিন ছেলের নির্যাতনের মাত্রা বাড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে এবং উপায়ান্তর না দেখে আদালতের শরণাপন্ন হন এই বৃদ্ধ বাবা।
এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহল বলছে, অনলাইন জুয়া ও পর্নোগ্রাফির মতো আসক্তি সমাজে নীরবে ভয়াবহ প্রভাব ফেলছে, যা পারিবারিক বন্ধনকেও ভেঙে দিচ্ছে।