নিজস্ব প্রতিবেদক
চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী রায়হান আলম পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে পালানোর পর এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুদ আলমকে। ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, দোযখ আর জাহান্নামে তফাৎ কি মাসুদ স্যার? রোববার (২ জুলাই) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া ওই স্ট্যাটাসটি সোমবার (৩ জুলাই) প্রকাশ্যে আসে এবং মুহূর্তেই আলোচনার ঝড় তোলে। সম্প্রতি নোয়াখালীতে পুলিশের একটি বিশেষ অভিযানে প্রায় গ্রেপ্তার হতে যাচ্ছিলেন রায়হান। তবে শেষ মুহূর্তে একটি ভবনের ছাদ থেকে লাফিয়ে পালিয়ে যান তিনি। এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হয়।
পরে এক সংবাদ সম্মেলনে এসপি মাসুদ আলম বলেন, রায়হান কোনোভাবে ছাদ থেকে লাফিয়ে পালিয়েছে। তবে সে জাহান্নাম না দেখলেও দোযখ দেখে ফেলেছে। ধারণা করা হচ্ছে, পুলিশ সুপারের এই মন্তব্যের জবাব দিতেই রায়হান সামাজিক মাধ্যমে এমন কটাক্ষ করেছেন। নোয়াখালীবাসীকে ধন্যবাদ
একই পোস্টে রায়হান নোয়াখালীর কিছু মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে লিখেছেন, ধন্যবাদ নোয়াখালী রংমালার মানুষদের। তারা এমন নিখুঁতভাবে আমার পাশে দাঁড়িয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিপদের সময় সবাই সাহায্য চায় এবং তিনি সেই সহায়তা পেয়েছেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে ভালো পথে ফেরার ইঙ্গিতও দেন তিনি।
“বিপদ আসবেই, তাই বলে হতাশ হওয়ার সুযোগ নেই, লিখেছেন রায়হান। সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে এসপি মাসুদ আলম নিজেই রায়হানের ফেসবুক পোস্টের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি জানান,
“আমরা তাকে ধরতে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ধরে ওই এলাকায় চিরুনি অভিযান চালিয়েছি। কেউ হয়তো তাকে পালাতে সাহায্য করেছে, তবে সুনির্দিষ্ট তথ্য ছাড়া কিছু বলা যাচ্ছে না। নোয়াখালীবাসীকে ধন্যবাদ জানানোর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পুরো নোয়াখালীবাসী তো তাকে সাহায্য করেনি। হয়তো গুটি কয়েক লোক জেনে বা না জেনে আশ্রয় দিয়েছে।
তিনি আরও জানান, রায়হানকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং তাকে আইনের আওতায় আনা সময়ের ব্যাপার মাত্র। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় হয়ে ওঠা এই শীর্ষ সন্ত্রাসীর বক্তব্য নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। একদিকে পুলিশের অভিযান, অন্যদিকে প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ, সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এখন টানটান উত্তেজনার।