নিজস্ব প্রতিবেদক
বিয়ের মিথ্যা প্রতিশ্রুতিতে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের ঘটনায় শুধুমাত্র পুরুষের শাস্তির বিধান কেন অবৈধ নয়, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রতি রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে প্রাপ্তবয়স্কদের সম্মতিমূলক সম্পর্ককে ‘বিয়ের প্রলোভন’ দেখিয়ে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করার বিধান কেন অসাংবিধানিক, অকার্যকর ও বাতিল ঘোষণা করা হবে না, তাও জানতে চেয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিচারপতি হাবিবুল গনির নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন। রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান। কী আছে বিতর্কিত আইনে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এ সংযোজিত একটি ধারায় বলা হয়েছে, দৈহিক বলপ্রয়োগ ছাড়া বিয়ের প্রলোভন দিয়ে ১৬ বছরের বেশি বয়সী কোনো নারীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করলে এবং সেই সময় আস্থাভাজন সম্পর্ক থাকলে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে অনধিক সাত বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা যাবে। রিট আবেদনে দাবি করা হয়, প্রাপ্তবয়স্কদের সম্মতিমূলক ব্যক্তিগত সম্পর্ককে ‘বিয়ের মিথ্যা প্রতিশ্রুতি’র ভিত্তিতে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার বিধানটি অস্পষ্ট, বৈষম্যমূলক এবং সংবিধানে নিশ্চিত মৌলিক অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ফলে এ বিধানের সাংবিধানিক বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। আইনজীবী ইশরাত হাসান গণমাধ্যমকে জানান, আগে ধর্ষণসংক্রান্ত অপরাধগুলো দণ্ডবিধির ৩৭৫ ধারার আওতায় বিচার হতো। তবে গত কয়েক বছরে ‘বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ’ নামে মামলা করার প্রবণতা বেড়েছে। অর্থাৎ, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সম্পর্ক স্থাপন করে পরে বিয়ে না করলে সেটিকে ধর্ষণ হিসেবে দাবি করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, “বর্তমান সংশোধিত আইনের মাধ্যমে এই বিষয়টি আলাদা অপরাধ হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে, যা সাংবিধানিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ। তাই আমরা আইনটির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেছি।
আদালতের পর্যবেক্ষণ: আদালত সম্পূরক রুলের মাধ্যমে সংশোধিত আইনটির সাংবিধানিক বৈধতার প্রশ্ন আরও স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।
গুরুত্ব ও প্রভাব: এই রুলের মাধ্যমে ব্যক্তিগত সম্পর্ক, সম্মতি এবং ফৌজদারি আইনের সীমা,এসব বিষয়ে নতুন করে আইনি ও সামাজিক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ মামলার রায় ভবিষ্যতে সম্মতিমূলক সম্পর্ক সংক্রান্ত আইন প্রয়োগে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।