নিজস্ব প্রতিবেদক
অ্যালার্জি, নামটা ছোট হলেও ভুক্তভোগীদের জন্য এটি এক নীরব যন্ত্রণা। সুস্বাদু খাবার সামনে থাকলেও শুধু অ্যালার্জির ভয়ে তা এড়িয়ে চলতে হয় অনেককে। হাঁসের ডিম, চিংড়ি, গরুর মাংস কিংবা বেগুন, প্রিয় খাবারগুলো বছরের পর বছর তালিকা থেকে বাদ পড়ে যায়। ফলে একদিকে যেমন মানসিক কষ্ট, অন্যদিকে দেখা দেয় পুষ্টিহীনতা।
তবে সম্প্রতি একটি সহজ ও স্বল্পব্যয়ী ঘরোয়া পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে, যা অ্যালার্জি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক বলে দাবি করছেন অনেকেই।
যেভাবে তৈরি করবেন ঘরোয়া উপাদান
প্রথমে ১ কেজি নিম পাতা সংগ্রহ করে ভালোভাবে রোদে শুকিয়ে নিতে হবে। শুকিয়ে গেলে তা পাটায় বা গ্রাইন্ডারে গুঁড়া করে পরিষ্কার একটি কৌটায় সংরক্ষণ করতে হবে। পাশাপাশি ইসবগুলের ভুষি সংগ্রহ করতে হবে।
সেবন পদ্ধতি
এক চা চামচের তিন ভাগের এক ভাগ নিমপাতার গুঁড়া এবং এক চা চামচ ইসবগুলের ভুষি এক গ্লাস পানিতে আধা ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখতে হবে। এরপর ভালোভাবে নাড়িয়ে প্রতিদিন তিনবার।
সকালে খালি পেটে
দুপুরে ভরা পেটে
রাতে শোয়ার আগে
এইভাবে টানা ২১ দিন সেবন করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
কার্যকারিতা নিয়ে যা জানা যাচ্ছে
ব্যবহারকারীদের মতে, এই পদ্ধতির প্রভাব শুরু হতে প্রায় এক মাস সময় লাগতে পারে। নিয়মিত সেবনে অ্যালার্জির উপসর্গ কমে আসতে পারে বলে দাবি করা হচ্ছে। ফলে আগে যেসব খাবার খেতে সমস্যা হতো, সেগুলো ধীরে ধীরে গ্রহণ করা সম্ভব হতে পারে।
সতর্কতা জরুরি
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো ধরনের ঘরোয়া চিকিৎসা শুরুর আগে সতর্ক থাকা জরুরি। অতিরিক্ত নিমপাতা সেবন শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। প্রয়োজনে অভিজ্ঞ চিকিৎসক বা ডিগ্রিধারী হেকিমের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
অ্যালার্জি নিয়ন্ত্রণে এই ঘরোয়া পদ্ধতি নিয়ে আগ্রহ তৈরি হলেও, এটি সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে কার্যকর হবে কি না, তা নির্ভর করে ব্যক্তিভেদে। তাই সচেতনতা ও চিকিৎসা পরামর্শই হতে পারে নিরাপদ সমাধান।