নিজস্ব প্রতিবেদক
ফেনীর দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়জুল আজিম নোমানকে দায়িত্ব পালনে অযোগ্য ঘোষণা করে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়ার চার দিনের মাথায় আদালতের এজলাসে ঢুকে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় বিচারকের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে ওসি নোমান পরপর তিনবার স্যালুট দেন। বিষয়টি নজরে আসার পর বিচারক তাকে প্রশ্ন করেন, আপনি এখানে কেন এসেছেন? বুধবার (১২ আগস্ট) ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ এন এম মোর্শেদ খানের এজলাসে এ ঘটনা ঘটে বলে আদালত-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সূত্র জানায়, এদিন বিচারক এজলাসে ওঠার আগে ওসি নোমান তার সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন। তবে আদালত সংশ্লিষ্টরা অনুমতি ছাড়া বিচারকের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ নেই বলে তাকে জানান। পরে বিচারক এজলাসে ওঠার পর হঠাৎ সেখানে প্রবেশ করেন ওসি। এ সময় তিনি বিচারককে পরপর তিনবার স্যালুট দিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন।
ঘটনাটি নজরে এলে বিচারক এজলাসের স্টেনোগ্রাফারের কাছে ওই ব্যক্তির পরিচয় জানতে চান। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর বিচারক ওসি নোমানকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আপনি এখানে কেন এসেছেন। আপনার সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত কোনো সম্পর্ক নেই। ইতিমধ্যে আপনাকে প্রত্যাহারের আদেশ দেওয়া হয়েছে। আদালতের অর্ডার অর্ডারই।’
এরপর ওসি নোমান এজলাস থেকে বেরিয়ে যান।
যে কারণে ওসিকে প্রত্যাহারের নির্দেশ
এর আগে গত ৯ আগস্ট দাগনভূঞা থানার ওসি ফয়জুল আজিম নোমানকে দায়িত্ব পালনে অযোগ্য ঘোষণা করে প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ এন এম মোর্শেদ খান। আদালত সূত্রে জানা যায়, দাগনভূঞার মমারিজপুর এলাকার ২৪ বছর বয়সী এক নারী তার স্বামীসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে যৌতুকের দাবিতে মারধর ও গুরুতর আহত করার অভিযোগ করেন। অভিযোগ নিয়ে থানায় মামলা করতে গিয়ে ব্যর্থ হয়ে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন। অভিযোগকারীর বক্তব্য, জবানবন্দি ও উপস্থাপিত কাগজপত্র পর্যালোচনা করে আদালত অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা দেখতে পান। পরে মামলাটি নথিভুক্ত করে তদন্তের জন্য পিবিআইকে দায়িত্ব দেওয়ার ব্যবস্থা করতে দাগনভূঞা থানার ওসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়। আদালতের আদেশে বলা হয়, ওই নারীর চিকিৎসার কাগজপত্রে মাথায় আঘাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতের তথ্য রয়েছে। গুরুতর আহত একজন নারীকে পুলিশ উদ্ধারের পরও তার অভিযোগ কেন মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়নি, তা বোধগম্য নয়। শুনানির সময় আইনজীবীরা একই থানায় আরেক ২২ বছর বয়সী নারীকে যৌতুকের দাবিতে হত্যার অভিযোগে করা মামলাও গ্রহণ না করার বিষয়টি আদালতের নজরে আনেন। ওই নারীকে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ করা হলেও থানায় মামলা নেওয়া হয়নি বলে আদালতে জানানো হয়। আদালত পৃথক দুটি ঘটনার অভিযোগ মামলা হিসেবে গ্রহণে পুলিশের অস্বীকৃতির বিষয়টি গুরুতর বলে উল্লেখ করেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার থানায় দায়িত্ব পালনের অযোগ্যতার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে বলেও আদেশে উল্লেখ করা হয়। এ অবস্থায় ওসি ফয়জুল আজিম নোমানকে দাগনভূঞা থানা থেকে প্রত্যাহার, পৃথক দুটি ঘটনায় মামলা নিতে অস্বীকৃতির বিষয় তদন্ত এবং তার বিরুদ্ধে যথাযথ বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে ফেনীর পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেন আদালত। ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট সাহাব উদ্দিন আহমেদ বলেন, দাগনভূঞা থানার ওসি বিচারকের এজলাসে প্রবেশ করেছেন বলে শুনেছি। ফেনীর পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার বলেন, ওসিকে প্রত্যাহার ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে আদালতের আদেশের পত্র তারা পেয়েছেন। বিষয়টি তদন্তে পুলিশের পক্ষ থেকে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আদালতে ওসির এভাবে প্রবেশ ও বিচারকের সঙ্গে দেখা করার চেষ্টার ঘটনায় আদালতপাড়ায়ও আলোচনা তৈরি হয়েছে।