নিজস্ব প্রতিবেদক
ময়মনসিংহের মাসকান্দায় আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস সড়কে দোকানে ঢুকে রাব্বি (২৫) নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি আবদুল খালেক (২৭)কে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১৪। পূর্বশত্রুতা ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাতে নগরের রঘুরামপুর এলাকা থেকে আবদুল খালেককে গ্রেপ্তার করা হয়। র্যাবের দাবি, হত্যাকাণ্ডের প্রায় আট ঘণ্টার মধ্যে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
নিহত রাব্বি নগরের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের জেলা পরিষদ হাইস্কুল রোডের মোড়লবাড়ি এলাকার মোবারক হোসেনের ছেলে। তিনি মাসকান্দা এলাকার আকাশ কম্পিউটারে চাকরি করতেন। র্যাব জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে মাসকান্দা এলাকায় আঞ্চলিক পাসপোর্ট কার্যালয়ের সামনে একদল ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে রাব্বির ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীদের হাত থেকে বাঁচতে রাব্বি পাশের একটি দোকানে আশ্রয় নেন। কিন্তু হামলাকারীরা দোকানের ভেতরেও ঢুকে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। রাব্বিকে বাঁচাতে তার ভাই মুহাম্মদ রিয়াদ এগিয়ে এলে তাকেও কুপিয়ে আহত করা হয়। পরে স্থানীয়রা রাব্বিকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বাপের ওপর হামলার প্রতিশোধ নিয়েছি
গ্রেপ্তারের পর সাংবাদিকদের সামনে আবদুল খালেক দাবি করেন, ২০১৮ সালে রাব্বির পক্ষের লোকজন তার বাবা ফজলুল হককে মারধর করে তাঁর একটি হাত বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছিল। ওই ঘটনার প্রতিশোধ নিতে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষোভ পুষে রেখেছিলেন তিনি।
খালেক বলেন, সন্ত্রাসী মারছি, আমার বাপেরে কোপাইছে, আমিও কোপাইছি।
তিনি আরও বলেন, আমার বাপেরে ১৫ জনে মিইল্লা কোপাইছে আর আমরা দুই ভাইয়ে মিইল্লা ওরে কোপাইছি। তবে খালেকের এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি র্যাব।
চাঁদাবাজির অভিযোগও তুলেছেন খালেক
র্যাবের কাছে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আবদুল খালেক অভিযোগ করেন, রাব্বির পক্ষের লোকজন এলাকায় ভবন নির্মাণসহ বিভিন্ন কাজে চাঁদা দাবি করতেন। সাংবাদিকদের সামনে তিনি দাবি করেন, হে প্রত্যেক দোকান থাইকা ২০০ টাকা করে চাঁদা তুলত।
তবে র্যাব জানিয়েছে, চাঁদাবাজির এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো যাচাই করা হয়নি। হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো বিরোধ বা পক্ষের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে।
হত্যায় চারজন সরাসরি জড়িত, পেছনে আরও ৮-১০ জন? র্যাব-১৪-এর কোম্পানি কমান্ডার মো. সামসুজ্জামান জানান, প্রাথমিকভাবে হত্যাকাণ্ডে চারজনের সরাসরি জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের পেছনে আরও ৮ থেকে ১০ জনের একটি গ্রুপ থাকতে পারে। ঘটনার আগের দিন দুই পক্ষের মধ্যে একটি সালিসও হয়েছিল বলে র্যাব তথ্য পেয়েছে। তবে সেই সালিস চাঁদাবাজি-সংক্রান্ত বিরোধের কারণে হয়েছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। র্যাবের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে আবদুল খালেক হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। হত্যায় তিনি বড় ধরনের দা বা হাঁসুয়া ব্যবহার করেছিলেন বলেও জানিয়েছেন।
হত্যার পর আসামিদের বাড়িতে আগুন
রাব্বি হত্যার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সন্ধ্যায় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্ত ব্যক্তিদের কয়েকটি বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেন বলে জানা গেছে। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ১১ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শিবিরুল ইসলাম জানান, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে নিহত রাব্বির বাবা মোবারক হোসেন বাদী হয়ে মামলা করেছেন। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও তিন থেকে চারজনকে আসামি করা হয়েছে। র্যাব ইতোমধ্যে মামলার প্রধান আসামি আবদুল খালেককে গ্রেপ্তার করেছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, জড়িত ব্যক্তিদের সংখ্যা এবং চাঁদাবাজির অভিযোগের সত্যতা খতিয়ে দেখতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।