নিজস্ব প্রতিবেদক
মুরাদপুর, কাতালগঞ্জ, জিইসি, প্রবর্তক মোড়, আগ্রাবাদ মুহুরীপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়কের ওপর পানি জমে যায়। কোথাও কোথাও হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি প্রবাহিত হওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হয়। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদেরও পড়তে হয় ভোগান্তিতে।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ১৮৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
নতুন করে ডুবল জামালখান
এবারের জলাবদ্ধতায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে নগরের ২১ নম্বর জামালখান ওয়ার্ড। অতীতে ভারি বৃষ্টিতেও জামালখান মূল সড়কে পানি ওঠার ঘটনা খুব একটা দেখা যায়নি। তবে সোমবার কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতেই সড়কের ওপর হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে যায়।
স্থানীয় চশমা ব্যবসায়ী কমল দাশ বলেন, এক মাস আগে টানা বৃষ্টিতে নগরের অনেক এলাকা ডুবে গেলেও জামালখানে পানি ওঠেনি। কিন্তু এবার কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতেই মূল সড়কে পানি প্রবাহিত হয়েছে। জামালখান খালের খননকাজ শেষ না হওয়ায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। জামালখান সড়ক ডুবে যাওয়ায় সরকারি বালিকা বিদ্যালয়, শাহ ওয়ালিউল্লাহ ইনস্টিটিউট, আইডিয়াল স্কুলসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বিপাকে পড়ে। সন্তানদের স্কুলে দিতে এসে অনেক অভিভাবককে সড়কের ওপর পানি দেখে ফিরে যেতে হয়।
রিয়াজউদ্দিন বাজারে দোকানে পানি
চট্টগ্রামের অন্যতম বৃহৎ পাইকারি বাণিজ্যকেন্দ্র রিয়াজউদ্দিন বাজারেও ঢুকে পড়ে বৃষ্টির পানি। এতে শত শত দোকানের মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ব্যবসায়ী নেতা আবুল হোসেন বলেন, সকালে দোকানে এসে অনেক ব্যবসায়ী দেখতে পান ভেতরে পানি ঢুকে গেছে। বৃষ্টি কমার পর অনেক ব্যবসায়ীকে দোকান থেকে পানি সেচে বের করতে হয়েছে। এতে ব্যবসায়ীদের ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে।
‘কয়েক ঘণ্টা বৃষ্টি হলেই ডুবে যায় কাতালগঞ্জ’
কাতালগঞ্জের বাসিন্দা ব্যাংকার মোবারক আলী বলেন, ‘বৃষ্টি যেন কাতালগঞ্জবাসীর জন্য অভিশাপ। কয়েক ঘণ্টা বৃষ্টি হলেই পুরো এলাকা ডুবে যায়।’
সোমবারের বৃষ্টিতে সকাল থেকেই আবাসিক এলাকা ও প্রধান সড়কগুলোতে কোমরসমান পানি জমে যায়। ফলে অনেক শিক্ষার্থী স্কুল-কলেজে যেতে পারেনি। একই সঙ্গে কর্মজীবী মানুষের একটি বড় অংশ নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে পৌঁছাতে পারেননি।
সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত
আবহাওয়া পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও উপকূলীয় এলাকায় ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এক মাস আগের টানা বর্ষণের ক্ষত কাটতে না কাটতেই কয়েক ঘণ্টার ভারি বৃষ্টিতে আবারও নগরীর বিভিন্ন এলাকা তলিয়ে যাওয়ায় চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। নগরবাসীর অভিযোগ, সামান্য বৃষ্টিতেই যদি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও বাণিজ্যিক এলাকা পানির নিচে চলে যায়, তাহলে দীর্ঘমেয়াদি জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের সুফল কোথায়, এ প্রশ্নের জবাব এখন তাদেরই প্রত্যাশা।