নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরের অভয়নগর উপজেলার বারান্দী ফকিরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশু শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারি বরাদ্দ করা নাশতা বিতরণে অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত খাবার শিশুদের না দিয়ে কম পরিমাণে দেওয়াসহ বরাদ্দের খাবার যথাযথভাবে বিতরণ করা হচ্ছে না, এমন অভিযোগ করেছেন কয়েকজন অভিভাবক। অভিভাবকদের অভিযোগ, বিদ্যালয়টিতে প্রায় ১৫০ জন শিশু শিক্ষার্থী রয়েছে। সরকারি কর্মসূচির আওতায় রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের নাশতা দেওয়ার কথা রয়েছে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী রবিবার ডিম ও রুটি, সোমবার রুটি ও দুধ, মঙ্গলবার কলা ও বিস্কুট এবং বুধবার ও বৃহস্পতিবার রুটি ও ডিম দেওয়ার কথা। তবে অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত তালিকা অনুযায়ী প্রতিদিন সব খাবার শিশুদের দেওয়া হচ্ছে না। বিশেষ করে ডিম ও রুটি দেওয়ার কথা থাকলেও কোনো কোনো দিন শুধু রুটি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন অভিভাবকেরা।
একজন শিক্ষার্থীর অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন, গত বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়ে শিশুদের রুটি ও ডিম দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শিক্ষার্থীদের শুধু রুটি দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, এমন ঘটনা মাঝে-মধ্যে ঘটছে এবং কোনো কোনো দিন শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত পরিমাণের তুলনায় কম খাবার দেওয়া হয়।
অভিভাবকদের অভিযোগ, শিশুদের জন্য বরাদ্দ করা খাবার যথাযথভাবে বিতরণ করা হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত তদারকি না থাকায় অনিয়মের সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিষয়টি সঠিকভাবে তদন্ত করা হলে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে বলে মনে করছেন তাঁরা।
সরকারি অর্থায়নে শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে বিদ্যালয় পর্যায়ে নাশতা কর্মসূচি পরিচালিত হলে সেখানে নির্ধারিত খাদ্যতালিকা, শিক্ষার্থীর সংখ্যা, সরবরাহকৃত খাদ্যের পরিমাণ এবং বাস্তবে বিতরণের হিসাবের মধ্যে সামঞ্জস্য থাকা গুরুত্বপূর্ণ। তাই অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে বিদ্যালয়ের উপস্থিতি খাতা, খাদ্য সরবরাহের হিসাব, বিল-ভাউচার, সরবরাহকারীর তথ্য এবং বিতরণসংক্রান্ত রেকর্ড পরীক্ষা করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে নির্ধারিত দিনে কতজন শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল, তাদের প্রত্যেককে কী পরিমাণ খাবার দেওয়া হয়েছে এবং সরবরাহকৃত খাবারের মোট পরিমাণ কত, এসব তথ্য যাচাই করলেই অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া সম্ভব। অভিভাবকদের কেউ কেউ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে যোগসাজশের মাধ্যমে শিশুদের খাবার কম দেওয়ার অভিযোগ করেছেন। অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও অভিভাবকেরা। তাঁদের বক্তব্য, শিশুদের খাবারের মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে কোনো ধরনের অনিয়ম হয়ে থাকলে তা শুধু সরকারি অর্থের অপব্যবহার নয়, শিশুদের পুষ্টি ও অধিকারও ক্ষতিগ্রস্ত করার শামিল। তাই বিষয়টি দ্রুত তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন।
অভিযোগের বিষয়ে বারান্দী ফকিরহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আফজাল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি কিছু জানি না। এ ব্যাপারে আমি পরে কথা বলব। এরপর তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। অভিযোগের বিষয়ে অভয়নগর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ সাহা বলেন, আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। খোঁজখবর নিয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিশুদের জন্য বরাদ্দ খাবার নিয়ে ওঠা অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে দ্রুত তদন্ত করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন অভিভাবকেরা। তাঁদের দাবি, বিদ্যালয়ে সরেজমিন পরিদর্শনের পাশাপাশি খাদ্য সরবরাহ ও বিতরণের হিসাব, উপস্থিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করা হোক। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে কোনো শিশু শিক্ষার্থীর বরাদ্দকৃত খাবার নিয়ে অনিয়মের সুযোগ না থাকে, সে জন্য নিয়মিত তদারকি জোরদারেরও দাবি উঠেছে।