নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরের অভয়নগরে পৌর আইন অমান্য করে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। সরকারি জায়গা ব্যবহারের পাশাপাশি পাশাপাশি ভবনের মধ্যে পৌর আইন অনুযায়ী নির্ধারিত জায়গা না রাখার অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চরমে পৌঁছায় সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, নওয়াপাড়া পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ক্লিনিকপাড়া এলাকায় গোয়াখোলা মৌজার ১০৭২ নম্বর খতিয়ানের সাবেক ১০ নম্বর বাটা ৬৮৩ দাগ ও হাল ৯১ দাগে মিজানুর রহমান বাবুলের স্ত্রী মর্জিনা বেগম (৫৫) একটি বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন। অভিযোগ রয়েছে, ভবন নির্মাণের সময় পাশের ভবনের সঙ্গে পৌর আইন অনুযায়ী ১ দশমিক ৫ ফুট জায়গা না রেখে এবং সরকারি জায়গার ওপর স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। এ ছাড়া ভবনের দেয়ালে প্লাস্টার করার সময় কোনো ধরনের নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা না নেওয়ায় সিমেন্ট, বালি ও পানি পাশের বাসিন্দা মৃত ইসমাইল মোল্লার ছেলে ডা. বদরুজ্জামানের টিনের চালে পড়ে সেটি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ডা. বদরুজ্জামান বলেন, বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ জানালে তাকে উচ্ছেদের হুমকি দেওয়া হয়েছে। এমনকি সন্ত্রাসী দিয়ে ভয়ভীতি দেখানোরও অভিযোগ করেন তিনি। পরে এ ঘটনায় নওয়াপাড়া পৌরসভায় লিখিত অভিযোগ করেন বদরুজ্জামান। অভিযোগের পর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী অসীম কুমার সোম বিষয়টি তদন্তের জন্য পৌর সার্ভেয়ার আকরাম হোসেনকে দায়িত্ব দেন। সার্ভেয়ার ২৩ আগস্ট সকাল ৯টায় ঘটনাস্থলে মাপজোকের সময় নির্ধারণ করেন। নির্ধারিত সময়ে সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত থাকলেও মর্জিনা বেগম ও তার পরিবারের কেউ উপস্থিত ছিলেন না বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে পৌর সার্ভেয়ার আকরাম হোসেন বলেন, মর্জিনা বেগমের ছেলে একজন ব্যাংক কর্মকর্তা। ছুটি না পাওয়ায় তিনি উপস্থিত হতে পারেননি। তবে ভবন নির্মাণের বিষয়ে তিনি বলেন, বিষয়টি মাপজোক ও তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, অভিযোগকারী পক্ষও ভবন নির্মাণে কোনো অনিয়ম করেছে কি না, সেটিও যাচাই করা প্রয়োজন। অন্যদিকে মর্জিনা বেগমের স্বামী মিজানুর রহমান বাবুল বলেন, “আমার জায়গায় আমি ঘর করেছি। পাশে কার ক্ষতি হলো, তা দেখার সময় নেই।
একই দাগে বসবাসকারী মৃত সিদ্দিক শেখের ছেলে আবুল হোসেন (৬০) ও লিটন শেখ (৫০) অভিযোগ করেন, এলাকায় এ নিয়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। তাদের ভাষ্য, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে ভবন নির্মাণে কোনো আইন লঙ্ঘন হয়ে থাকলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে মর্জিনা বেগমের বক্তব্য সরাসরি পাওয়া যায়নি। পৌরসভার মাপজোক ও তদন্তের পর প্রকৃত পরিস্থিতি স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।