বিশেষ প্রতিনিধি যশোর ( মনিরামপুর )
যশোরের মনিরামপুর উপজেলার খেদাপাড়া ও গাংগুলিয়া এলাকা এখন অপরাধের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন স্থানীয় 'সজল' ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী। চাঁদাবাজি, ঘের লুট, জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়, শারীরিক নির্যাতন এবং প্রকাশ্যে মাদকের আড্ডা বসিয়ে পুরো এলাকার স্বাভাবিক জনজীবন বিপর্যস্ত করে তুলেছে এই গ্যাং।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গাংগুলিয়া এলাকায় লিটনের একটি মাছের ঘের জোরপূর্বক লুট করে নেয় সজল ও তার সহযোগীরা। খেদাপাড়ার ঈমান আলীর ঘেরের মাটি কাটার সময় মাটি বহনের ট্রাক্টর আটকে রেখে ৩০,০০০ টাকা চাঁদা আদায় করা হয়। এ ছাড়া গাংগুলিয়ার মাঠসংলগ্ন বিভিন্ন মাছের ঘের এবং পণ্যবাহী গাড়ির চালকদের জিম্মি করে প্রতিদিন মোটা অঙ্কের চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
এলাকার একাধিক সাধারণ মানুষকে আটকে রেখে সর্বস্ব লুটে নেওয়ার ঘটনা নিয়মিত বিষয়ে দাঁড়িয়েছে। গাংগুলিয়া স্কুল মাঠে দুটি ছেলেকে জিম্মি করে ৫০,০০০ টাকা আদায় করা হয়। অন্য একটি ঘটনায়, হানুয়ার এলাকার এক তরুণকে আমতলায় আটকে রেখে চণ্ডীপুরের রিপনের মধ্যস্থতায় ৪০,০০০ টাকা মুক্তিপণ নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।
একইভাবে খেদাপাড়ার বড় মুজিবারের বাড়ির এক ঘের চাষিকে তুলে নিয়ে গিয়ে চুরির অপবাদ দিয়ে নির্মম নির্যাতন চালানো হয়। পরবর্তীতে তার কাছ থেকে ২০,০০০ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি তার মোটরসাইকেলটি আটকে রাখা হয়, যা পরে বিক্রি করে দেয় সজল গ্যাং। দাসপাড়ার খুদিরাম বাবুর ছেলে বদ্ধেকে চুরির মিথ্যা অপবাদ দিয়ে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করা হয় এবং মায়ের কাছ থেকে ৩০,০০০ টাকা আদায় করার পর তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।
সম্প্রতি খেদাপাড়া দাসপাড়ার মান্দার দাসের মেয়েকে বাড়ি থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালায় সজল ও নূর হোসেনের নেতৃত্বে ২০-২৫ জনের একটি সশস্ত্র দল। এ সময় স্থানীয় বিএনপি নেতা জুলফিক্কার বাধা দিলে অপহরণচেষ্টা ব্যর্থ হয়। তবে ক্ষুব্ধ সজল ও তার বাহিনীর সদস্যরা বিএনপি নেতা জুলফিক্কারকে বেধড়ক মারধর ও জখম করে। এই বিষয়ে জুলফিক্কার এর সাথে কথা হলে তিনি বিষয়টি সত্য বলে স্বীকার করেন।
সন্ধ্যা নামলেই গাংগুলিয়া স্কুল মাঠ এবং গাংগুলিয়া আমতলা মোড়ে মনিরের চায়ের দোকানের পেছনে বসে গাঁজা ও মাদকের মেলবন্ধন। স্থানীয়দের দাবি, সজল ও তার দল সরাসরি মাদক সেবন ও বিক্রির সাথে জড়িত। অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ৫ই আগস্টের পূর্বে খেদাপাড়ার যুবলীগ ও ছাত্রলীগের প্রভাবশালী কর্মীদের সাথে সজলের গভীর সখ্য ছিল, যা বর্তমানেও গোপনে বিদ্যমান। রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়কে কাজে লাগিয়ে তারা এলাকায় নানা অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে সজলের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবি করেন। তবে ঘটনার পর খেদাপাড়া ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আসিফ হোসেন সংবাদকর্মীকে মুঠোফোনে ফোন করে এই সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য সরাসরি হুমকি প্রদান করেন।
সজল বাহিনীর এমন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, চাঁদাবাজি ও মাদকের আগ্রাসনে ক্ষুব্ধ ও আতঙ্কিত স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগীরা। খেদাপাড়া ও গাংগুলিয়ার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবিলম্বে সজল ও তার বাহিনীর বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তারা।