নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরের কেশবপুরে বাবার মরদেহ বাড়িতে রেখেই জমি ও পারিবারিক কবরস্থানের জায়গা নিয়ে সংঘর্ষে জড়ানো দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে এবার তাদের সত্তরোর্ধ্ব বৃদ্ধা মাকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রতিকার, নিরাপত্তা ও উপযুক্ত ভরণপোষণের দাবিতে দুই ছেলের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মা নুরজাহান বেগম (৭০)। বর্তমানে তিনি নিজের পৈতৃক ভিটা ছেড়ে মেয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। বুধবার (২৬ আগস্ট) ইউএনওর কাছে দেওয়া লিখিত অভিযোগে নুরজাহান বেগম বলেন, তাঁর দুই ছেলে কোনো ভরণপোষণ দেন না এবং তাঁকে প্রায়ই দুর্ব্যবহার করেন। এমনকি তাঁর প্রয়াত স্বামী খালেক মানের দাফনকাজেও ছেলেরা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছিলেন। বৃদ্ধ বয়সে ছেলেদের এমন আচরণে তিনি অসহায় হয়ে পড়েছেন। তিনি দুই ছেলে ও তাঁদের স্ত্রীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি নিজের ভরণপোষণের ব্যবস্থা করার আবেদন জানিয়েছেন। নুরজাহান বেগম বলেন, জীবনের শেষ সময়ে এসে সন্তানদের দায়িত্বহীনতার কারণে তিনি আজ আশ্রয়হীন ও চরম অসহায়। নিজের বাড়িতে থাকার অধিকারটুকুও হারিয়েছেন বলে অভিযোগ তাঁর।
চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেই মাকে তাড়ানোর অভিযোগ পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বাবার মৃত্যুর পর সংঘর্ষে আহত ছোট ছেলে আসাবুল ও তাঁর স্ত্রী হালিমা খাতুন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফেরার পরই নুরজাহান বেগমকে বাড়ি থেকে চলে যেতে বলেন। পরে নিরুপায় হয়ে তিনি মেয়ে তাসলিমার বাড়িতে আশ্রয় নেন। তাসলিমা বলেন, ভাইয়েরা মাকে বাড়িছাড়া করলেও তিনি মাকে ফেলে রাখবেন না। ভাইয়েরা দায়িত্ব নিতে না চাইলে শেষ পর্যন্ত তিনিই মায়ের দেখাশোনার দায়িত্ব পালন করবেন। অভিযোগের বিষয়ে সন্ন্যাসগাছা গ্রামে ছোট ছেলে আসাবুলের বাড়িতে গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি। তাঁর মুঠোফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। তবে আসাবুলের ছেলে আল আমিন দাবি করেন, তাঁর দাদি ক্ষোভের বশে নিজেই বাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন। তাঁকে বুঝিয়ে বাড়িতে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।
অন্যদিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বড় ছেলে মাহবুবুর রহমান বলেন, তাঁর মা ছোট ভাইয়ের সঙ্গে এবং বাবা তাঁর সঙ্গে থাকতেন। তাই মায়ের দায়িত্ব দুই ভাইয়েরই যৌথভাবে নেওয়া উচিত। ছোট ভাই দায়িত্ব এড়িয়ে গেলেও তিনি নিজে মায়ের আজীবন ভরণপোষণের দায়িত্ব নেবেন বলে জানান। উল্লেখ
এর আগে গত সোমবার ভোরে সন্ন্যাসগাছা গ্রামের বাসিন্দা খালেক মান (৭৫) মারা যান। তাঁর মরদেহ বাড়িতে রেখেই পারিবারিক কবরস্থান ও জমির ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন তাঁর দুই ছেলে মাহবুবুর রহমান (৫২) ও আসাবুল (৪২)।
একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হলে চারজন আহত হন। তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সংঘর্ষের কারণে বাবার দাফনকাজও আটকে যায়। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে স্থানীয়দের সহায়তায় দাফন সম্পন্ন করা হয়। বাবার মৃত্যুর শোক কাটতে না কাটতেই দুই ছেলের বিরুদ্ধে মাকে বাড়িছাড়া করার অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আনোয়ার হোসেন বলেন, লিখিত অভিযোগটি গুরুত্বসহকারে গ্রহণ করা হয়েছে। অসহায় এই বৃদ্ধা মাকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের আইনি সহায়তা দেওয়া হবে। বৃদ্ধা নুরজাহানের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান ইউএনও।