বিশেষ প্রতিনিধি
পিচঢালা রাজপথ যখন তপ্ত রোদে পুড়ে কিংবা শ্রাবণের মরণকামড় বসানো বৃষ্টিতে ভিজে, তখন একদল মানুষ ঘরে ফেরে। কিন্তু কিছু মানুষ থাকে, যাদের ঘর বলে কিছু থাকে না। যাদের ঠিকানা হয়ে ওঠে মিছিলের অগ্রভাগ, স্লোগানের কম্পন আর শোষিতের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম। গত ১৭ বছরের অবর্ণনীয় ফ্যাসিবাদের অন্ধকার বুকে চেপে বন্দবিলা ইউনিয়ন বিএনপির তেমনই এক কান্ডারী ও জীবন্ত কিংবদন্তির নাম, মোঃ মনিরুজ্জামান তপন- যিনি বন্দবিলা ইউনিয়ন বিএনপির বিপ্লবী সভাপতির দায়িক্ত সাফল্যের সাথে পালন করে আসছেন বিগত ১৪ বছর ধরে। সময়টা ১৯৮৬ সাল। সাবেক রাষ্ট্রনায়ক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কালজয়ী আদর্শ বুকে ধারণ করে, বিএনপির সক্রিয় রাজনীতিতে পা রেখেছিলেন এক তরতাজা যুবক.। আজ দেখতে দেখতে ৪০ টি বছর পার হয়ে গেছে। এই দীর্ঘ ৪০ বছরে বিএনপির পতাকাতলে নিজের জীবনের সব সুখ-আহ্লাদ বিসর্জন দিয়ে তিনি খুঁজে পেয়েছেন তার রাজনৈতিক সার্থকতা। দলের প্রতি তার অবিচল আনুগত্য ও সততার পুরস্কার স্বরূপ ছিলেন যশোর সিটি কলেজ শাখার ছাত্রদলের সহ- সভাপতি, ছিলেন যুব দলের জেলা শাখার সহ সভাপতি এবং যশোর পৌর বিএনপির সহ সভাপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।
বিগত ১৭ বছরের ফ্যাসিস্ট আওয়ামী আমলে যখন রাজপথে বিরোধী দলের মিছিল-মিটিং তো দূরের কথা, একটা সভা বা সমাবেশ ডাকলে দাওয়াত দিয়েও কর্মী পাওয়া কষ্টকর ছিল, ঠিক তখনো দমে যাননি মোঃ মনিরুজ্জামান তপন । আওয়ামী রক্তচক্ষু, গুম, খুন আর মামলার পরোয়া না করে, ইউনিয়ন বিএনপির কান্ডারী হিসেবে সবার আগে রাজপথে এসে দাঁড়িয়েছেন তিনি.।
২০১৩ সালে যখন একের পর এক গায়েবি ও রাজনৈতিক মামলায় পুরো ইউনিয়ন বিএনপি জর্জরিত, তখন তিনি কাঁধে তুলে নেন ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের এক জ্বলন্ত কয়লার দায়িত্ব। এর চরম মূল্য চুকাতে হয়েছে তাকে ও তার পরিবারকে। সন্তানদের বুকে জড়িয়ে শান্তিতে ঘুমানোর পরিবর্তে বছরের পর বছর তার রাত কেটেছে অন্ধকার ধানক্ষেতে কিংবা গভীর বনে-জঙ্গলে।
তবুও কর্মীদের একা ফেলে পালিয়ে যাননি। নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে, মুখে মাস্ক আর মাথায় গামছা বেঁধে রাতের আঁধারে ঘুরেছেন কর্মীদের বাড়ি বাড়ি। নিজ পকেট থেকে অর্থ দিয়ে করিয়েছেন কর্মীদের জেল-জামিনের ব্যবস্থা, মুখে তুলে দিয়েছেন ক্ষুধার্ত নেতাকর্মীর পরিবারের অন্ন। ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ হুলিয়া জারি করেছিল, তপনকে যেখানে পাওয়া যাবে, পিটিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হবে"। অথচ সেই অমানুষিক নির্যাতনের মুখেও তিনি বন্দবিলা ইউনিয়ন বিএনপিকে এক সুতোয় গেঁথে রেখেছিলেন শুধুমাত্র তার চৌকস নেতৃত্ব ও ইস্পাতকঠিন মনোবল দিয়ে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৬ সালে মোঃ মনিরুজামান তপনের হাতে তুলে দেয়া হয় বন্দবিলা ইউনিয়ন বিএনপির আহবায়কের মত গুরুদায়িক্ত।এবং সেখানে ও তিনি সফল। ফলাফল মোং মনিরুজ্জামান তপন এখন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি। এরপর আওয়ামী প্রতিহিংসার আগুন আরও তীব্র হয়। তার নামে থাকা পূর্বের ৩টি মামলার সাথে যুক্ত করা হয় আরও ৪ টি মিথ্যা মামলা। পরিবার পরিজন ছেড়ে তাকে জেলের ঘানি টানতে হয়েছে ৩ মাসের ও বেশি সময়। ৭টি মামলার ঘানি টেনে তাকে ইউনিয়ন ছাড়া করা হলেও তাকে বিএনপি ছাড়া করা যায়নি। বাঘারপাড়া , যশোর লালদীঘির মাঠ, খুলনা কিংবা ঢাকার পল্টন, যেখানেই বিএনপির ডাক এসেছে, তপন তার ইউনিয়ন থেকে নেতাকর্মীদের নিয়ে বুক চিতিয়ে হাজির হয়েছেন প্রথম সারিতে।
৫ই আগস্টের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের পর যখন চারদিকে অনেকে নিজের আখের গোছাতে আর ক্ষমতার মোহে মত্ত, মোন মনিরুজ্জামান তপন তখন সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। তিনি ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন মানুষের সেবায়। একহাতে ইউনিয়ন বিএনপিকে সাংগঠনিকভাবে সুদৃঢ় করছেন, অন্যহাতে ইউনিয়নের স্কুল, কলেজ, মসজিদ, মাদ্রাসার উন্নয়ন, বয়স্ক ভাতা নিশ্চিতকরণ এবং যুবসমাজের কর্মসংস্থানে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। আওয়ামী আমলে যেমন সবার দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতেন, আজও দ্বীন-হীন অবহেলিত মানুষের দরজায় দরজায় গিয়ে খোঁজ নিচ্ছেন, কারও কোনো কষ্ট আছে কি না? মোঃ মনিরুজ্জামান তপনের এই মানবিক ও আপসহীন গুণাবলীর কারণে আজ দল-মত নির্বিশেষে বন্দবিলা ইউনিয়নের সর্বস্তরের মানুষ তাকে আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চায়।ইউনিয়নের ৫নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির এক নেতা আবেগঘন কণ্ঠে বলেন,
তপন ভাইয়ের যে ত্যাগ বিএনপির জন্য, উনার কষ্টের সাথে আমাদের ইউনিয়নের অন্য কারও কষ্টের তুলনা চলে না। উনি দলটির জন্য নিজের জীবন বাজি রেখেছেন। উনার মতো একজন সৎ ও অন্যায়ের সাথে আপসহীন নেতা আমাদের ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হওয়া বড্ড প্রয়োজন। উনি চেয়ারম্যান হলে ইউনিয়ন থেকে অন্যায়-জুলুম মুছে যাবে এবং বিএনপির সুনাম অক্ষুণ্ণ থাকবে।
একই সুরে সুর মিলিয়ে ইউনিয়নের ফরিদা খাতুন নামের এক সাধারণ নারী বলেন, ইউনিয়নের নারীদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও আমাদের নিরাপত্তার জন্য তপন ভাইয়ের মতো একজন সৎ, ভদ্র ও আদর্শ লোকের দরকার। ওকে তো অনেক দিন যাবৎ দেখছি, ও নারীদের সম্মান করতে জানে। এলাকার উন্নয়নে ও শুধু পাশে থাকে না, সবসময় সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দেয়। তৃণমূলের ভালোবাসায় সিক্ত তপনের বক্তব্য: আসন্ন ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে এই বিপ্লবী জননেতা মোঃ মনিরুজ্জামান তপন বলেন, চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার ইচ্ছা আমার আছে। তবে আমার কাছে সবার উপরে দলীয় সিদ্ধান্ত। জেলা ও উপজেলা বিএনপি যদি আমাকে বন্দবিলাবাসীর সেবা করার জন্য চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ দেয়, আমি আমার দল ও নীতি নির্ধারকদের কখনো হতাশ করব না। আমি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হিসেবে নয়, এই ইউনিয়নের একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে বলতে পারি, আমার বন্দবিলার প্রতিটি মানুষের হাঁড়ির খবর আমার জানা আছে। কার বাসায় আজ দুপুরে চুলা জ্বলেছে আর কার জ্বলেনি, সব আমি জানি। আমাদের ইউনিয়নবাসীর জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের অনেক কাজ এখনো বাকি। দল যদি আমাকে সুযোগ দেয়, তবে আগামী মাত্র ২ বছরের মধ্যে এই বন্দবিলা ইউনিয়নকে বাঘারপাড়া উপজেলার মধ্যে একটি সর্বশ্রেষ্ঠ ও আদর্শ ইউনিয়ন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করব, ইনশাআল্লাহ। বন্দবিলার মাটি ও মানুষের স্পন্দন, বহু ঝড়-তুফানে পরীক্ষিত এই মহান নেতাকে ঘিরেই এখন নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখছে গোটা ইউনিয়নবাসী। যিনি সুসময়ে নয়, দুঃসময়ে বুক পেতে আগলে রেখেছিলেন সবাইকে, তাকেই আজ বন্দবিলা ইউনিয়নের শ্রেষ্ঠ অভিভাবক হিসেবে পেতে চায় সর্বস্তরের জনগণ।