বিশেষ প্রতিবেদক, যশোর:
যশোরের রাজনীতির মাঠে বিগত ১৭ বছরের ঘোর অন্ধকার দিনে রক্ত, ঘাম আর পরম ত্যাগের এক বিশ্বস্ত কান্ডারী—যশোর জেলা যুবদলের সদস্য সচিব আনসারুল হক রানা। হামলা, মামলা আর জুলুম-নির্যাতন মাথার ওপর নিয়ে যিনি ৮টি উপজেলার হাজারো নেতাকর্মীকে পরম মমতায় আগলে রেখেছেন, আজ সেই ত্যাগী নেতার বিরুদ্ধেই চালানো হলো চরম চরিত্রহনন ও বিষোদ্গারের হীন চক্রান্ত। মালয়েশিয়া প্রবাসী কথিত বিএনপি নেতা জনাব হাফিজ এবং যশোর জেলা যুবদলের সাবেক প্রচার সম্পাদক এস্কান্দার আলী জনির একটি হোয়াটসঅ্যাপ ফোনালাপের অডিও সম্প্রতি প্রকাশ্যে আসতেই পুরো যশোর জেলাজুড়ে এক অভূতপূর্ব ক্ষোভ, আবেগ ও নিন্দার ঝড় উঠেছে। একজন সভ্য ও রাজনৈতিক সচেতন মানুষের পক্ষে যা মুখে উচ্চারণ করাও অসম্ভব, সেভাবে রানার বিরুদ্ধেই চরম কুরুচিপূর্ণ কুৎসা রটানোয় ফুঁসে উঠেছেন তৃণমূলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা।
গতকাল এস্কান্দার আলী জনি তার ব্যক্তিগত ফেসবুকে মনিরামপুরের খেদাপাড়া নিবাসী ও বর্তমানে মালয়েশিয়া প্রবাসী ওই বিএনপি নেতার সাথে ফোনালাপের অডিওটি ফাঁস করেন। সেখানে দেখা যায়, জনির উসকানিমূলক কথাবার্তার জবাবে প্রবাসী হাফিজ নিজের নাম গোপন রাখার আকুতি জানিয়েও রানার বিরুদ্ধে এক কদম এগিয়ে মনগড়া, ভিত্তিহীন ও নেতিবাচক মন্তব্য করে যান। চক্রান্তের এই থলের বিড়াল বাইরে আসতেই তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মাঝে বইছে তীব্র ক্ষোভের উত্তাপ। নেতাকর্মীদের মতে, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম ও জাতীয় নির্বাচনের পর দল যখন নতুন করে সুসংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে, ঠিক তখনই পেছন থেকে একদল ব্যর্থ ও সুবিধাবাদী চক্র এই ধরনের জঘন্য ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে। তারা দলের বন্ধু নয়, বরং বিএনপির মূল শত্রু।
ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে অভয়নগর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম ফারাজী চরম আবেগ ও ক্ষোভের সাথে বলেন, “যে বাজে কথাগুলো রানা ভাইয়ের বিরুদ্ধে বলা হয়েছে, আমি তার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাই। আনসারুল হক রানা যশোর জেলার রাজনীতিতে এক অনন্য সংগ্রামের নাম। বিগত ১৭ বছর আমাদের ৮টি উপজেলার বিএনপির রাজনীতি এবং অসংখ্য নিপীড়িত নেতাকর্মীকে টিকিয়ে রাখতে তিনি যে ত্যাগ ও কষ্ট স্বীকার করেছেন, তা খুব কম মানুষের পক্ষেই সম্ভব। আজ কিছু সুবিধাবাদী লোক দেশ-বিদেশে বসে সেই মানুষের নামে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তাদের বলবো—আগে রানা ভাইয়ের আত্মত্যাগের ইতিহাস জানুন। না জেনে, না বুঝে রাজপথের লড়াকু সৈনিককে নিয়ে বিষোদ্গার করার এই নোংরা মানসিকতা যশোরের বিএনপির কোনো নেতাকর্মী মেনে নেবে না।
একই সুর চৌগাছা উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আব্দুল মান্নানের কণ্ঠে। তিনি চরম হুঙ্কার দিয়ে বলেন, “রানা ভাই যশোর জেলা যুবদলের অহংকার ও গর্বের প্রতীক। আমাদের সেই গর্বকে নিয়ে কেউ যদি বিদেশ থেকে কিংবা প্রকাশ্যে এই ধরনের প্রোপাগান্ডা ছড়ায়, তবে যশোর জেলা যুবদলের কোনো ইউনিট তা নীরবে সহ্য করবে না। রাজপথেই এর দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে।”
ঝিকরগাছা উপজেলা যুবদলের সভাপতি নাজু তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আনসারুল হক রানার মতো একজন নেতার চরিত্রহনন করার এই জঘন্য চেষ্টা অত্যন্ত আপত্তিকর ও রাজনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত। আমরা তৃণমূল যুবদলের পক্ষ থেকে এর তীব্র নিন্দা জানাই এবং চক্রান্তকারীদের রাজনৈতিকভাবে বর্জনের আহ্বান জানাই।”
বাঘারপাড়া উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ইখলাছ দলের অভ্যন্তরীণ ক্ষোভের পেছনের কারণ তুলে ধরে বলেন, “রানা ভাই শুধু যুবদলের সদস্য সচিব বলেই বলছি না, দলটির জন্য তার ত্যাগ ও সংগ্রামের ইতিহাস সোনার অক্ষরে লেখার মতো। রাজনীতিতে প্রত্যাশিত পদ-পদবি না পেয়ে কিছু লোক আজ চরম হতাশায় ভুগছে। আর সেই ব্যর্থতা ঢাকতেই তারা বিদেশ থেকে রানা ভাইয়ের নামে বিষোদ্গার করে চলেছে। কিন্তু এই দেশের সাধারণ মানুষ ও যশোরের বিএনপির নেতাকর্মীরা বোকা নয়। তাদের এই নোংরা অপকৌশল কেউ খাবে না। যাদের গত ১৭ বছর রাজপথে তো দূরের কথা, কোনো মিছিলেও খুঁজে পাওয়া যায়নি, তারা আজ রানার বিরুদ্ধে লাগছে! এরা দলের ভেতরে থাকা শত্রু ছাড়া আর কিছুই নয়।”
নাম প্রকাশ না করার শর্তে যশোর সদরের যুবদলের এক সাবেক শীর্ষ নেতা আক্ষেপ করে বলেন, “বিষয়টি অত্যন্ত হাস্যকর ও করুণ। যশোরের রাজনীতিতে আনসারুল হক রানার স্থান কোথায়, তা তৃণমূলের প্রতিটি কর্মী নিজের রক্ত দিয়ে জানে। যশোরে বিএনপির রাজনীতিতে আনসারুল হক রানা একজনই ছিলেন, আছেন এবং থাকবেন—কোনো ভুঁইফোড় চক্রান্তকারী তাকে সাধারণ কর্মীদের হৃদয় থেকে মুছে ফেলতে পারবে না।”
এ বিষয়ে কথা হয় ভুক্তভোগী যশোর জেলার যুব দলের সদস্য সচিব আনসারুল হক রানার সাথে- ভারাক্রান্ত হৃদয় নিয়ে তিনি বলেন বিগত ৩৫ বছর যাবত আমি বিএনপির রাজনীতির সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। বিএনপির উপর দিয়ে যেমন ঝড় জলোচ্ছ্বাস সাইক্লোন গিয়েছে তেমনি আমার উপর দিয়ে ও গিয়েছে। অনেক প্রলোভন লোভ লালসা দিয়েও আমাকে বিএনপি থেকে কেউ সরাতে পারেনি এবং যতদিন বাঁচব ততদিন বিএনপি আমার রক্তে চলতে থাকবে। যশোর জেলার জননেতা জনাব অনিন্দ্য ইসলাম অমিত ভাই এবং কেন্দীয় নেতারা আমার ত্যাগ তিতিক্ষা দেখেই আমাকে যশোর জেলার যুব দলের যে গুরু দায়িক্ত দিয়েছে সেটা আমি যথাযথভাবে পালন করে যাচ্ছি , আমার লক্ষ্য বিএনপি উন্নয়ন, গন্তব্য ও বিএনপি উন্নয়ন।সেখানে দু একজনের কুৎসা বিএনপির প্রতি ভালবাসা থেকে আমাকে কখনো দূরে সরিয়ে রাখতে পারেনি এবং পারবে না ।
অন্যদিকে কুৎসা রটনাকারী ম্যালেশিয়া প্রবাসী মনিরামপুরের খেদাপাড়াবাসী জনাব হাফিজের সাথে যোগাযোগ করার চেস্টা করা হলে তিনি ফোন ধরে নি ।
তৃণমূলের স্পষ্ট বার্তা, আনসারুল হক রানা কেবল পদধারী কোনো নেতা নন, তিনি যশোর যুবদলের প্রতিটি লড়াকু কর্মীর আবেগ ও আস্থার শেষ ঠিকানা। ষড়যন্ত্রকারীদের অবিলম্বে চিহ্নিত করে সাংগঠনিক ও আইনি শাস্তির আওতায় আনার দাবিতে এখন উত্তাল যশোর। জানা গেছে, ষড়যন্ত্রে যুক্ত এস্কান্দার আলী জনি ও প্রবাসে বসে কুৎসা রটনাকারী হাফিজের বিরুদ্ধে অচিরেই জেলার বিভিন্ন ইউনিটে ঝাড়ু মিছিল, মানববন্ধন ও কঠোর কর্মসূচির ডাক দিতে যাচ্ছে যুবদল ও সহযোগী সংগঠনগুলো।