নিজস্ব প্রতিবেদক
খুলনার ফুলতলায় এম এম কলেজের দক্ষিণ পাশ থেকে ইয়ানুর গাজী (২২) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে তার পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। নিহত ইয়ানুর যশোরের অভয়নগর উপজেলার শুভরাড়া ২ নম্বর ওয়ার্ডের নজরুল গাজীর ছেলে। মঙ্গলবার (১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকালে ফুলতলা এম এম কলেজের দক্ষিণ পাশে আলামিন স্যানিটারির সামনে ওই যুবকের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে ফুলতলা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে থানায় নিয়ে যায়। পরে সিআইডির একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করে। ওই ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্য যাচাই করে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। নিহতের পারিবারিক সূত্র জানায়, ইয়ানুর মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। তিনি ফুলতলা সুপার জুট মিলে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। কাজ করে যে টাকা আয় করতেন, তা দিয়ে স্থানীয় দোকান থেকে খাবার কিনে নিজের খরচ চালাতেন। অধিকাংশ রাতে পার্শ্ববর্তী সিদ্ধিপাশা গ্রামে তার নানাবাড়িতে গিয়ে ঘুমাতেন। পরিবারের সদস্যরা আরও জানান, গত তিন-চার দিন ধরে ইয়ানুরের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। এ অবস্থায় মঙ্গলবার সকালে ফুলতলা এম এম কলেজের পাশে তার মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে পরিবারে নেমে আসে শোকের ছায়া। ফুলতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারগুব তৌহিদ বলেন, ‘নিহত যুবকের নাম ইয়ানুর গাজী। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। তবে ইয়ানুরের মৃত্যু স্বাভাবিক নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।