নিজস্ব প্রতিবেদক
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার সোনালী ব্যাংক ঘাঘর বাজার শাখায় পাঁচ লাখ টাকা জমা দিতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন এক গ্রাহক। টাকা গণনার পর ‘সাড়ে চার হাজার টাকা কম’ রয়েছে বলে জানানো হলেও পরে ব্যাংকের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে গ্রাহকের দাবি সত্য বলে প্রমাণিত হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় ব্যাংকের এক নারী ক্যাশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রাহকের টাকা সরিয়ে রাখার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনাটি নিয়ে ব্যাংক কর্মকর্তা ও গ্রাহকের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হলে পরে ব্যাংক ব্যবস্থাপকের উপস্থিতিতে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়। ফুটেজে গ্রাহকের দেওয়া টাকা থেকে পাঁচশ টাকার নয়টি নোট আলাদা করে অন্যত্র সরিয়ে রাখার দৃশ্য দেখা গেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে আল-আমিন শেখ নামে ওই গ্রাহক হজে যাওয়ার উদ্দেশ্যে সোনালী ব্যাংকের ঘাঘর বাজার শাখায় পাঁচ লাখ টাকা জমা দিতে যান। তিনি ব্যাংকের ক্যাশ অফিসার ফৈজিয়া হকের কাছে টাকা জমা দেন।
টাকা গণনার পর ক্যাশ কর্মকর্তা জানান, জমা দেওয়া টাকার মধ্যে চার হাজার পাঁচশ টাকা কম রয়েছে। তবে গ্রাহক আল-আমিন শেখ দাবি করেন, তিনি সম্পূর্ণ পাঁচ লাখ টাকাই ক্যাশ কর্মকর্তার কাছে বুঝিয়ে দিয়েছেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। পরে নিজের দাবির সত্যতা যাচাই করতে ব্যাংক ব্যবস্থাপক ফয়সাল হোসেনের কাছে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখার দাবি জানান আল-আমিন শেখ। এরপর ফুটেজ পর্যালোচনা করা হলে সেখানে গ্রাহকের দেওয়া টাকা থেকে পাঁচশ টাকার নয়টি নোট আলাদা করে সরিয়ে রাখার দৃশ্য দেখা যায় বলে দাবি করেন সংশ্লিষ্টরা।
গ্রাহক আল-আমিন শেখ বলেন, হজে যাওয়ার জন্য পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে ব্যাংকে গিয়েছিলাম। টাকা জমা দেওয়ার পর ক্যাশ কর্মকর্তা জানান, সাড়ে চার হাজার টাকা কম আছে। আমি বিষয়টি অস্বীকার করে ম্যানেজারের কাছে সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে চাই। পরে ফুটেজে আমার দেওয়া পুরো টাকার বিষয়টি স্পষ্ট হয়। এর আগেও ওই কর্মকর্তা একইভাবে আমার দুই হাজার টাকা সরিয়েছিলেন বলে আমি মনে করি। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা চাই। তবে অভিযোগের বিষয়ে ক্যাশ কর্মকর্তা ফৈজিয়া হক বলেন, ব্যাংকে অতিরিক্ত ভিড় থাকায় ভুলবশত এমন ঘটনা ঘটেছে। পরে তিনি গ্রাহকের চার হাজার পাঁচশ টাকা ফেরত দিয়েছেন বলেও জানান। এ বিষয়ে সোনালী ব্যাংক ঘাঘর বাজার শাখার ব্যবস্থাপক ফয়সাল হোসেন বলেন, বিষয়টি নিয়ে সাময়িক ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছিল। পরে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে গ্রাহক আল-আমিন শেখের টাকা বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর ব্যাংকের গ্রাহকদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। একজন গ্রাহকের জমা দেওয়া টাকা নিয়ে এমন পরিস্থিতি কীভাবে তৈরি হলো এবং সিসিটিভিতে টাকা আলাদা করে রাখার দৃশ্যের পেছনে প্রকৃত কারণ কী, তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
তবে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত ঘটনাটিকে চূড়ান্তভাবে ‘টাকা আত্মসাৎ’ হিসেবে অভিহিত না করে অভিযোগ ও সিসিটিভি ফুটেজের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষ বলে বিবেচনা করা হচ্ছে।