নিজস্ব প্রতিবেদক
মাদক শনাক্তকরণের ডোপ টেস্টের উদ্যোগ নেওয়ার খবর জানার পর চাঁদপুর নতুন বাজার পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) মামুন উর রশিদ ফাঁড়ি থেকে চলে গেছেন বলে জানা গেছে। গত দুই দিন ধরে তার কোনো সন্ধান না পাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে পুলিশ বিভাগে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
জানা গেছে, চাঁদপুর নতুন বাজার পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত মোট ১৮ জন পুলিশ সদস্যের মধ্যে এসআই মামুন উর রশিদের আচরণ সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তাকে ডোপ টেস্টের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ডোপ টেস্টের কথা জানতে পেরে গত ১৫ সেপ্টেম্বর তিনি ফাঁড়ি থেকে চলে যান বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। পরবর্তীতে বিষয়টি পুলিশ প্রশাসনের নজরে আসে। এসআই মামুনের সন্ধানে চাঁদপুরের পুলিশ সুপারের নির্দেশে পুলিশ সদস্যরা তার বাসায় যান। তবে সেখানে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। নতুন বাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার ও বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুদিনই মামুন উর রশিদের বাসায় পুলিশ সদস্য পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু তাকে বাসায় পাওয়া যায়নি। এমনকি মঙ্গলবার থেকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নম্বরটিও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। ফাঁড়ি সূত্রে জানা গেছে, সেখানে কর্মরত পুলিশ সদস্যদের মধ্যে যাদের আচরণ সন্দেহজনক বলে মনে হবে, তাদের পর্যায়ক্রমে ডোপ টেস্টের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তবে এসআই মামুন উর রশিদের বিরুদ্ধে মাদক গ্রহণ বা মাদক সংশ্লিষ্টতার কোনো অভিযোগ ডোপ টেস্টের ফলাফল দিয়ে এখনো প্রমাণিত হয়েছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। ডোপ টেস্টের ফলাফল ও সংশ্লিষ্ট তদন্তের পরই এ বিষয়ে চূড়ান্তভাবে কিছু বলা সম্ভব হবে। এদিকে ডোপ টেস্টের খবর পাওয়ার পর একজন পুলিশ কর্মকর্তার এভাবে কর্মস্থল ত্যাগ এবং মোবাইল ফোন বন্ধ রাখার ঘটনায় বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তার অবস্থান নিশ্চিত করে পরবর্তী পদক্ষেপ কী নেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।