নিজস্ব প্রতিবেদক
নড়াইল সদর উপজেলার বাজার সিঙ্গিয়া এলাকায় একটি নারিকেলকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে বাড়িতে হামলা, মারধর, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বাড়ির মালিক মোঃ মনিরুল বিশ্বাস, আকাশী ও সালেহা বেগম নামে তিনজন আহত হয়েছেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার পর আহত ব্যক্তিদের নড়াইল সদর হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে এজাহারে দাবি করা হয়। এ ঘটনায় নড়াইল সদর থানায় দেওয়া এজাহারে সাতজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪–৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। এজাহার সূত্রে জানা যায়, মনিরুল বিশ্বাসের প্রতিবেশী বাকী শেখের একটি নারিকেলগাছ তাঁর সীমানায় অবস্থিত। ওই গাছ থেকে একটি নারিকেল পড়ে গেলে মনিরুলের বোন মোছাঃ লাইলী বেগম সেটি কুড়িয়ে রাখেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আসামিদের সঙ্গে তাঁদের বিরোধের সূত্রপাত হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এজাহারে মনিরুল বিশ্বাস অভিযোগ করেন, গত ১৬ সেপ্টেম্বর সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে আসামিরা তাঁর বাড়ির সামনে এসে তাঁকে ও পরিবারের সদস্যদের গালিগালাজ করতে থাকেন। একপর্যায়ে লাইলী বেগমকে গালিগালাজের প্রতিবাদ করলে তাঁকে চুলের মুঠি ধরে মাটিতে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ করা হয়। এরপর হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালান বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে মনিরুল বিশ্বাসের মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত লাগে। আকাশীর মাথায় রামদা দিয়ে আঘাত এবং সালেহা বেগমের হাতে লোহার রড দিয়ে আঘাত করার অভিযোগও করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, হামলার সময় তানজিল শেখ বাঁশের লাঠি দিয়ে মনিরুলের মাথায় আঘাত করেন। পরে হামলাকারীরা লোহার রড, রামদা, ধারালো দা ও বাঁশের লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ
এজাহারে মনিরুল বিশ্বাস দাবি করেন, হামলাকারীরা তাঁর চারটি টিনের বসতঘরের বেড়া কুপিয়ে, কেটে ও ভেঙে আনুমানিক দুই লাখ টাকার ক্ষতি করেন।
এ ছাড়া তাঁর ঘরে থাকা স্টিলের আলমারির ড্রয়ার থেকে ৫০ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। একই ড্রয়ারে থাকা একটি স্বর্ণের চেইন, এক জোড়া স্বর্ণের কানের দুল ও দুটি আংটি, মোট আনুমানিক দুই ভরি স্বর্ণালংকার, যার মূল্য প্রায় ৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা, নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, বাড়িতে লাগানো পল্লী বিদ্যুতের দুটি মিটার ভেঙে আনুমানিক ৩০ হাজার টাকার ক্ষতি করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে এজাহারে হামলা, মারধর, ভাঙচুর ও মালামাল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
হাসপাতালে চিকিৎসা এজাহারে বলা হয়েছে, আহত মনিরুল বিশ্বাস, আকাশী ও সালেহা বেগমকে স্থানীয় কয়েকজনের সহায়তায় দুটি ইজিবাইকে করে সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে নড়াইল সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তাঁরা সেখানে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
মনিরুল বিশ্বাস গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি থাকায় তাঁর ছেলে সাকিব বিশ্বাসের মাধ্যমে এজাহারটি থানায় পাঠানো হয়েছে বলেও এতে উল্লেখ রয়েছে। এ বিষয়ে এজাহারে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন বাদী মোঃ মনিরুল বিশ্বাস।
তবে এজাহারে করা অভিযোগগুলোর বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য জানা যায়নি। এবিষয়ে নড়াইল সদর থানার পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগ পাওয়া গেছে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।