বিশেষ প্রতিনিধি:
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার প্রতিটি আন্দোলনে যশোর জেলার মনিরামপুর উপজেলার রাজপথে সবসময় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন শ্যামকূড় ইউনিয়নের বিএনপির অন্যতম কাণ্ডারি ও সাবেক বিপ্লবী যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জনাব এস এম আনিছুর রহমান লিটন। শ্যামকূড় ইউনিয়নের সাবেক এই ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তৎকালীন শাসকদলের রামরাজত্ব ও অন্যায়-অনিয়মের ভেতরে থেকেও বিএনপির পতাকাকে দৃঢ়ভাবে ধরে রেখেছিলেন।
তবে এই আপসহীন রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে তৎকালীন শাসকদল ও স্থানীয় প্রশাসনের চরম রাজনৈতিক প্রতিহিংসার প্রধান শিকার হতে হয়েছে তাঁকে। রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করা ও আন্দোলন দমানোর লক্ষ্যে তাঁর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক দ্রব্য আইন, গাড়ি ভাঙচুর ও নানাবিধ নাশকতার একাধিক মিথ্যা ও সাজানো মামলা দায়ের করা হয়।
অসংখ্য মামলার হুলিয়া ও আইনি হয়রানি সহ্য করেও রাজপথ থেকে পিছপা হননি এই নেতা। এই বিএনপি প্রেমের মাশুল হিসেবে ২০১৩ সালে মনিরামপুর থেকে বাড়ি ফেরার পথে তাঁর ওপর আওয়ামী সন্ত্রাসী বাহিনী অতর্কিত জানলেওয়া হামলা চালায়। বেদম প্রহারের পর তাঁকে মৃত ভেবে রাস্তায় ফেলে রেখে যায় সন্ত্রাসীরা। সারারাত নিথর দেহ রাস্তায় পড়ে থাকার পর সকালে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ছেলের এই মর্মান্তিক পরিণতি দেখে শয্যাপাশেই তাৎক্ষণিক হৃদরোগে (হার্ট অ্যাটাক) আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন তাঁর মা।
এখানেই শেষ নয়; ২০১৪ সালের ১৫ই জানুয়ারি তৎকালীন আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য (এমপি) টিপু সুলতানের প্রত্যক্ষ নির্দেশে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর (র্যাব) একটি দল তাঁকে 'ক্রসফায়ার' দেওয়ার উদ্দেশ্যে ঘেরাও করে আক্রমণ চালায়। অলৌকিকভাবে নিজের প্রাণ বাঁচিয়ে সরে যেতে সক্ষম হলেও, তাঁকে গ্রেপ্তার করতে না পেরে ক্ষোভে-আক্রোশে তাঁর ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি পুড়িয়ে ভস্মীভূত করে দেওয়া হয়।
গত ৫ই আগস্টের পর যখন অনেক নেতাকর্মী নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত, ঠিক তখন এস এম আনিছুর রহমান লিটন সমাজ গঠনের কাজ এবং সামাজিক উন্নয়নে মনোনিবেশ করেছেন। সকল হতাশা ও প্রতিকূলতা পেরিয়ে ত্যাগী নেতাকর্মীদের পাশে থেকেছেন অভিভাবক হিসেবে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইউনিয়ন বিএনপির এক কর্মী জানান, "লিটন ভাই ৫ই আগস্টের পর চাইলে নিজের জন্য অনেক কিছু করতে পারতেন, কিন্তু তিনি একজন হাসি-খুশি ও মাটির মানুষ; দলের বাইরে তিনি কিছুই বোঝেন না।"
বর্তমানে শ্যামকূড় ইউনিয়ন বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত থাকার সুযোগে কিছু সুবিধাবাদী ও আওয়ামী ঘরানার "হাইব্রিড" নেতা চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হওয়ার পাঁয়তারা করছে। এতে ত্যাগী নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ ইউনিয়নবাসীও চরম ক্ষুব্ধ ও হতাশ।
শ্যামকূড় ইউনিয়ন বিএনপি এবং দল-মত নির্বিশেষে সর্বস্তরের ভোটারদের এখন একটাই দাবি— মনিরামপুর উপজেলা বিএনপি, যশোর জেলা বিএনপি ও দলীয় হাইকমান্ড যেন অবিলম্বে শ্যামকূড় ইউনিয়ন বিএনপিকে পুনরুজ্জীবিত করে। একই সাথে এস এম আনিছুর রহমান লিটনের মতো বিগত ১৭ বছরের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকে আগামী নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে লড়ার সুযোগ দেওয়ার জোর আহ্বান জানিয়েছেন তারা, যেন রাজপথের ত্যাগী নেতাদের উপযুক্ত মূল্যায়ন হয় এবং ইউনিয়নবাসী একজন আদর্শ ও পরীক্ষিত জনপ্রতিনিধি লাভ করে।