নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরের অভয়নগর উপজেলার শিল্প ও বাণিজ্যিক নগরী নওয়াপাড়া। রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এ পৌরসভায় আগামী দিনের নেতৃত্ব নিয়ে ইতোমধ্যে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের আলোচনায় উঠে এসেছে নওয়াপাড়া পৌর বিএনপির নেতা আসাদুজ্জামান জনির নাম। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং মাঠপর্যায়ে সক্রিয়তার কারণে তাঁর সমর্থকদের একটি অংশ তাঁকে নওয়াপাড়ার তারুণ্যের শক্তি হিসেবে তুলে ধরছেন। তাঁদের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ সময়ের রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও জনি বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন এবং নানা মামলা-মোকদ্দমা ও কারাবরণের মধ্যেও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে গেছেন। তবে জনিকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্কও রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গসহ নানা অভিযোগ ওঠে এবং গণমাধ্যমে এসব অভিযোগের খবর প্রকাশিত হয়েছে। যশোর জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে তাঁর সাংগঠনিক পদ স্থগিতের কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে। অন্যদিকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাঁর পদ পুনর্বহাল ও মুক্তির দাবিতে নওয়াপাড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের খবর প্রকাশিত হয়। এর আগে ২০২৫ সালে নওয়াপাড়া মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি হিসেবে তাঁর নির্বাচিত হওয়ার খবরও প্রকাশিত হয়েছিল।
মাঠের রাজনীতি ও জনসম্পৃক্ততা
জনির সমর্থকদের ভাষ্য, রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি নওয়াপাড়া পৌর এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছেন। সামাজিক ও মানবিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডেও তাঁর অংশগ্রহণের খবর প্রকাশিত হয়েছে। ২০২৫ সালের একটি অনুষ্ঠানে শতাধিক পরিবারের মধ্যে চাল বিতরণ কর্মসূচিতে তাঁকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।
সমর্থকদের দাবি, রাজনীতির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা এবং তরুণ নেতাকর্মীদের সংগঠিত করার ভূমিকার কারণে নওয়াপাড়ার বিএনপির একটি অংশের মধ্যে তাঁর প্রভাব রয়েছে। নিজের রাজনৈতিক অবস্থান সম্পর্কে আসাদুজ্জামান জনি বলেন, রাজনীতি আমার কাছে কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের মাধ্যম নয়। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিকূলতার মধ্যেও আমি মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। মামলা, হামলা কিংবা কারাবরণ, কোনো কিছুই আমাকে মানুষের কাছ থেকে দূরে রাখতে পারেনি। আমার রাজনীতির মূল শক্তি হচ্ছে সাধারণ মানুষ ও দলের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।”
তিনি আরও বলেন, নওয়াপাড়ার মানুষ আমাকে যে ভালোবাসা ও আস্থা দিয়েছেন, সেটিই আমার সবচেয়ে বড় অর্জন। আমি কোনো বিভাজনের রাজনীতি করতে চাই না। দলীয় সিদ্ধান্ত ও শৃঙ্খলার প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। সুযোগ পেলে নওয়াপাড়া পৌরসভাকে একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন, মাদকমুক্ত ও নাগরিকবান্ধব পৌরসভা হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করব।”
মেয়র পদে মনোনয়ন প্রসঙ্গে জনির ভাষ্য,
“মনোনয়ন চাওয়া একজন রাজনৈতিক কর্মীর গণতান্ত্রিক অধিকার। আমি দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে আমার দল। দল যাকে যোগ্য মনে করবে, আমি তাঁর পক্ষেই কাজ করব। আমার কাছে দলীয় ঐক্য ও শৃঙ্খলা সবার আগে। যে বিষয়গুলো সামনে আনতে চান সমর্থকেরা
সমর্থকদের দাবি, নওয়াপাড়ার ভবিষ্যৎ নেতৃত্বে তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়ানো, মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ, পৌর এলাকার জলাবদ্ধতা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, নাগরিক সেবা সহজীকরণ এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি, এসব বিষয়ে জনির আগ্রহ রয়েছে।
তাঁদের মতে, শিল্পনগরী নওয়াপাড়ার অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনায় পৌরসভাকে শুধু প্রশাসনিক কাঠামো হিসেবে নয়, বরং একটি পরিকল্পিত বাণিজ্যিক নগরী হিসেবে গড়ে তোলা প্রয়োজন।
তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মেয়র পদে দলীয় মনোনয়ন পেতে হলে শুধু ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা নয়, দলীয় সিদ্ধান্ত, সাংগঠনিক অবস্থান, স্থানীয় নেতাকর্মীদের সমর্থন এবং রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতাসহ একাধিক বিষয় বিবেচনায় আসবে।
সব মিলিয়ে নওয়াপাড়া পৌরসভায় আগামী দিনের নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা যত বাড়ছে, আসাদুজ্জামান জনির নামও ততই সামনে আসছে। তাঁর রাজনৈতিক অতীত যেমন সমর্থকদের কাছে সংগ্রামের ইতিহাস, তেমনি তাঁকে ঘিরে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ ও দলীয় সিদ্ধান্তও আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এখন দেখার বিষয়, আগামী পৌর নির্বাচন ও দলীয় মনোনয়নের প্রক্রিয়ায় তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান কোন দিকে যায়।