নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর গুলশানে বিদেশে ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় পাঠানোর কথা বলে ৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগে আবুল হাসান (৩১) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় গুলশান থানায় মামলা হয়েছে। মামলায় প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়েছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে গ্রেপ্তার করা আসামিকে আদালতে পাঠিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে বলে মামলার বাদীপক্ষ জানিয়েছে। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সিরাজগঞ্জের আলোকদিয়া গ্রামের মোঃ মামুন রেজা খান (৩৯) গত ১৯ সেপ্টেম্বর গুলশান থানায় অভিযোগটি দায়ের করেন। মামলায় আবুল হাসানসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। গুলশান থানার মামলা নম্বর ২৮, তারিখ ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬। মামলাটি দণ্ডবিধির ৪০৬/৪২০/৩৪ ধারায় করা হয়েছে। এজাহারে বলা হয়, আবুল হাসানের প্রতিষ্ঠান ‘বিন হাসান হলিডেস’-এর অফিস গুলশান-২-এর তাহের টাওয়ারের লেভেল-১৪-এ। ২০২৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি মামুন রেজার সঙ্গে থাকা মোঃ আনোয়ার হোসেন ওই অফিসে যান। তাঁকে রাশিয়ায় ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় পাঠানোর কথা বলে চুক্তিপত্র সম্পাদনের মাধ্যমে নগদ ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। এর বিপরীতে মানি রিসিপ দেওয়া হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর ২০২৫ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর মামুন রেজা, শ্রী খোকন চন্দ্র সাহা ও মোঃ নিবর আলী আকন্দ ওই অফিসে যান। তাঁদের ডেনমার্কে ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় পাঠানোর কথা বলে তিনজনের কাছ থেকে ১ লাখ টাকা করে মোট ৩ লাখ টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ অর্থের একটি অংশ ব্যাংক চেকের মাধ্যমে এবং অন্য অংশ ব্যাংক হিসাবে জমা দেওয়ার মাধ্যমে পরিশোধ করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে। এজাহারে আরও বলা হয়, ২০২৫ সালের ১৫ অক্টোবর শফিকুল ইসলাম আরমান ও আকাশ চন্দ্র পাল আবুল হাসানের অফিসে গেলে তাঁদের সাইপ্রাসে ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় পাঠানোর আশ্বাস দেওয়া হয়। এ সময় শফিকুল ইসলাম আরমানের ভাই মোঃ আরিফুল ইসলামের ব্যাংক হিসাব থেকে আবুল হাসানের ব্যাংক হিসাবে ২ লাখ টাকা এবং আকাশ চন্দ্র পালের পক্ষ থেকে আরও ২ লাখ টাকা পাঠানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। উভয় লেনদেনের বিপরীতে মানি রিসিপ দেওয়ার কথাও এজাহারে উল্লেখ রয়েছে। সব মিলিয়ে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে তাঁদের কাছ থেকে ৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে বলে বাদীর অভিযোগ। এজাহারে বাদী অভিযোগ করেন, নির্ধারিত সময় পার হলেও অভিযুক্ত ব্যক্তি তাঁদের বিদেশে পাঠাননি। বরং বিভিন্নভাবে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। একপর্যায়ে তাঁরা জানতে পারেন, একইভাবে আরও অনেক মানুষের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট অফিস বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এরপর মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁরা আবুল হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি বলে এজাহারে বলা হয়েছে। বাদির ভাষ্য অনুযায়ী, বিদেশে পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে বিশ্বাস অর্জন করে পরে টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে পরিবারের সদস্য ও অন্যান্য ভুক্তভোগীদের সঙ্গে আলোচনা এবং যোগাযোগের কারণে মামলা করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় গুলশান থানায় দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪২০ ও ৩৪ ধারায় মামলা করা হয়েছে। পুলিশ আবুল হাসানকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে এবং মামলার তদন্তের স্বার্থে তাঁকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেছে। তবে মামলায় করা অভিযোগের বিষয়ে আসামির বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। অভিযোগের সত্যতা তদন্ত ও আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে। এবিষয়ে গুলশান থানা পুলিশ জানিয়েছেন আসামিকে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে মামলার তদন্ত করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।