নিজস্ব প্রতিবেদক
মানিকগঞ্জে শ্বশুরবাড়িতে অটোরিকশার ব্যাটারি চুরি করতে গিয়ে ধরা পড়ার পর ধস্তাধস্তির ঘটনায় সিদ্দিক নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তার জামাই রাসেল শ্বশুরের অণ্ডকোষে লাথি মারলে তিনি মাটিতে পড়ে যান। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ভোররাত আনুমানিক ২টার দিকে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার গড়পাড়া ইউনিয়নের শাকরাইল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সিদ্দিক শাকরাইল গ্রামের বাসিন্দা। এ ঘটনায় তার জামাই রাসেলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রাসেল একই ইউনিয়নের বিশ্বনাথপুর গ্রামের মৃত হাবিবুল্লাহর ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোররাতে অটোরিকশার ব্যাটারি চুরির উদ্দেশ্যে রাসেল শ্বশুরবাড়িতে প্রবেশ করেন বলে অভিযোগ। এ সময় তার শ্যালক শফিক ও শ্বশুর সিদ্দিক অন্ধকারে তাকে ধরে ফেলেন। পরে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে রাসেল সিদ্দিকের অণ্ডকোষে লাথি মারেন। এতে তিনি মাটিতে পড়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরে স্থানীয়রা রাসেলকে আটক করে মারধর করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে তিনি পুলিশের হেফাজতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নিহতের স্ত্রী রুনা বেগম অভিযোগ করেন, তার ছেলে চিৎকার করে জানায়, অটোরিকশার ব্যাটারি চুরি করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পরে তারা গিয়ে রাসেলকে দেখতে পান। তিনি অভিযোগ করেন, রাসেল তার স্বামীকে লাথি মারলে তিনি মাটিতে পড়ে যান। এ ঘটনায় রাসেলসহ জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি করেন তিনি। তার দাবি, রাসেলের সঙ্গে আরও দুই ব্যক্তি ছিলেন; তাদের একজনের নাম শাওন। প্রত্যক্ষদর্শী বাবুল মিয়া বলেন, চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ শুনে তিনি বাইরে এসে সিদ্দিক ও রাসেলের মধ্যে কথা কাটাকাটি দেখতে পান। একপর্যায়ে রাসেল সিদ্দিককে লাথি দিলে তিনি মাটিতে পড়ে যান। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তবে অভিযুক্ত রাসেল দাবি করেন, তিনি তার শ্বশুরকে কোনো লাথি মারেননি। তার ভাষ্য, শ্বশুর ঘর থেকে বের হয়ে তাকে দেখার পর হঠাৎ পড়ে যান। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে তার মৃত্যু হয়।
স্থানীয়দের কেউ কেউ দাবি করেছেন, রাসেল নেশাগ্রস্ত এবং নেশার অর্থ জোগাড় করতে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জড়ানোর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। পুলিশ জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে এর আগেও মোবাইল চুরির একটি মামলা রয়েছে।
মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন বলেন, রাসেলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। নিহত সিদ্দিকের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তদন্তের পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।