বিশেষ প্রতিনিধি
যশোরের অভয়নগরের বর্ণী বিছালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রতিদিন বিদ্যালয় ছুটি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অলোক কুমার ঘোষের বিরুদ্ধে। অভিযোগের বিষয়ে মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে গিয়ে তার সত্যতা পাওয়া যায়, এসময় বিদ্যালয়ের প্রধান ফটক সহ সকল শ্রেণী কক্ষে তালা ঝুলতে দেখা যায়।
অভিযোগ রয়েছে, মাধ্যমিক পর্যায়ের বিদ্যালয়ে নির্ধারিত পাঠদানের সময় সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত হলেও বিদ্যালয়টিতে নিয়মিতভাবে বিকেল ৩টার আগেই পাঠদান কার্যক্রম শেষ করে শিক্ষার্থীদের ছুটি দেওয়া হচ্ছে।
অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, নির্ধারিত সময়ের আগে বিদ্যালয় ছুটি হয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীরা প্রতিদিনের পূর্ণাঙ্গ পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এতে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পাঠ্যসূচি (সিলেবাস) শেষ করা নিয়েও সংশয় দেখা দিয়েছে।
অভিভাবকদের ভাষ্য, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী পাঠদান নিশ্চিত করা বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। কোনো বিশেষ কারণে নির্ধারিত সময়ের আগে বিদ্যালয় ছুটি দিতে হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন বা যৌক্তিক কারণ থাকা প্রয়োজন। ফলে নিয়মিতভাবে সময়ের আগে ছুটি দেওয়ার বিষয়টি তদন্ত করে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, প্রতিদিন নির্ধারিত সময়ের আগে বিদ্যালয় ছুটি দেওয়ার কারণ কী এবং এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েছেন কি না। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে শিক্ষা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে বিদ্যালয়ের দৈনিক রুটিন, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের হাজিরা খাতা, ছুটির রেজিস্টার এবং সরেজমিনে বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম পর্যালোচনা করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয় শিক্ষানুরাগীরা।
এ বিষয়ে বর্ণী বিছালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক অলোক কুমার ঘোষের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “বিদ্যালয়ের পাঠদান শুরু হয় সকাল ৯টায় এবং শেষ হয় দুপুর ৩টায়। পাশেই একটি মেলা চলছে। এছাড়া বিদ্যুৎ না থাকায় আজ (মঙ্গলবার) আগেই ছুটি দেওয়া হয়েছে।”
মেলার কারণে বিদ্যালয় ছুটি দেওয়ার বিষয়ে কোনো লিখিত অনুমোদন বা নির্দেশনা রয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীরা একটি আবেদন করেছিল।”
এ বিষয়ে অভয়নগর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, “সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত পাঠদান করাতে হবে। সময়ের আগে বিদ্যালয় ছুটি দেওয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই। আপনার মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারলাম। খোঁজ নিয়ে জানাতে পারবো।