বিশেষ প্রতিবেদন:
জাতীয় রাজনীতির পর এবার পরিবর্তন ও সংস্কারের হাওয়া বইতে শুরু করেছে স্থানীয় সরকারে। চলতি বছরের শেষ দিকেই বহুল প্রতীক্ষিত ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার জোর সম্ভাবনা রয়েছে। এবারের নির্বাচনে সততা, আইনি স্বচ্ছতা ও নতুন আচরণবিধি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে সরকার, যার ফলে এমপিওভুক্ত শিক্ষক বা সুবিধাভোগী পদে থাকা ব্যক্তিদের প্রার্থী হওয়ার সুযোগ থাকছে না। এই নতুন রাজনৈতিক সমীকরণে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নীতি-নির্ধারকদের কাছে এখন সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ মানদণ্ড হয়ে উঠেছে—‘ক্লিন ইমেজ’, ত্যাগী মনোভাব এবং জনসম্পৃক্ত নেতৃত্ব।
এই বদলে যাওয়া রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যশোর জেলার চৌগাছা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী নারায়ণপুর ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে সর্বস্তরের মানুষের আলোচনার শীর্ষে উঠে এসেছেন যশোর জেলা শ্রমিক দলের সহ-সভাপতি এবং প্রবাস রাজনীতির পরিচিত মুখ জনাব মো: মহিদুল ইসলাম।
বিগত ১৭ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে দেশে এবং বিদেশে সমানভাবে সোচ্চার ছিলেন যে কয়জন রাজপথের লড়াকু সৈনিক, মো: মহিদুল ইসলাম তাদের অন্যতম। রাজনৈতিক দূরদর্শিতার কারণে তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই শাখা শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদকের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনের সময় দুবাইতে স্বৈরাচারবিরোধী গণআন্দোলন সংঘটিত হলে তৎকালীন আওয়ামী প্রশাসন ও দুবাইস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে তার নাম, ছবি ও ঠিকানা স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে পাঠানো হয়। এর জেরে দুবাই পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে এবং তিনি দীর্ঘ ৩ মাস কারাভোগ করেন।
তবে এই ত্যাগের মাসুল শুধু তাকেই একা দিতে হয়নি; তার পুরো পরিবারকে দিতে হয়েছে অমানবিক মূল্য।পরিবার ও স্বজনদের ওপর অমানুষিক নির্যাতনের ইতিহাস,মহিদুল ইসলামের গোটা পরিবার এক রাজপথের নির্যাতিত বিএনপি পরিবার হিসেবে পরিচিত। তার পিতা প্রয়াত জনাব লাল মিয়া ছিলেন নারায়ণপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি। যার নামে একের পর এক মিথ্যা ও নাশকতার ১৫টিরও বেশি মামলা দায়ের করা হয়েছিল।
রাজনৈতিক প্রতিহিংসার চরম শিকার হতে হয় এই প্রবীণ নেতাকে। অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন সরকারের অপশাসনের সময় আওয়ামী প্রশাসন তাকে নিজ বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে পাশবিক শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। একজন বৃদ্ধ মানুষের পক্ষে এই নির্যাতন সহ্য করা সম্ভব হয়নি। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং বাড়ি ফিরিয়ে আনার পর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
শুধু পিতা নন, মহিদুল ইসলামের ভাই এবং চৌগাছা উপজেলা বিএনপির বর্তমান যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জনাব শরিফুল ইসলামের ওপরও স্থানীয় ক্যাডার ও অনুগত বাহিনী দফায় দফায় বর্বরোচিত হামলা চালায়। তাদের রক্তাত অবস্থায় উদ্ধার করা হলেও স্থানীয় সরকারি হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা পর্যন্ত নিতে দেওয়া হয়নি; পরবর্তীতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের যশোর জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে হয়।
নির্যাতনের চরম পরাকাষ্ঠা দেখিয়ে তাদের বসতবাড়ির প্রধান ফটকের সামনে বিশালাকৃতির এক ইটের দেয়াল তুলে দেওয়া হয়েছিল, যাতে এই পরিবারটি অবরুদ্ধ থাকে এবং কোনো স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে না পারে। দীর্ঘ ১২ বছর অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকার পর অবশেষে গত ৫ই আগস্টের ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের পর সেই অবরুদ্ধ দেয়াল ভেঙে মুক্ত করা হয়।স্বৈরাচারী শাসনামলে দেশে অবস্থানকালেও মহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ৩টি মিথ্যা ও নাশকতার মামলা দেওয়া হয় এবং তাকে এ দেশেও কারাবরণ করতে হয়।
২০১৪ পরবর্তী সময়ে যখন ভয়ভীতি ও প্রশাসনের নির্যাতনে ইউনিয়নের অধিকাংশ নেতাকর্মী আত্মগোপনে চলে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন, তখন এলাকায় বিএনপির প্রদীপ জ্বালিয়ে রেখেছিলেন মো: মহিদুল ইসলাম ও তার পরিবার। তৎকালীন সময়ে নির্যাতিত পরিবারগুলোর জন্য আইনি সহায়তা, আর্থিক অনুদান ও মানবিক সুরক্ষার ব্যবস্থা করা ছিল তার প্রতিদিনের কাজ।যেটা তারা গত ১৭ বছর ধরে করে আসছে।
গত ৫ই আগস্টের পর থেকে কেবল রাজনীতির মধ্যে নিজেকে সীমাবদ্ধ না রেখে, তিনি এলাকার সামাজিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন। স্থানীয় স্কুল, কলেজ, মসজিদ, মাদ্রাসা এবং সামাজিক ক্রীড়া সংগঠনের সংস্কার ও উন্নয়নে তিনি নিজ উদ্যোগে সাহায্য-সহযোগিতা করে যাচ্ছেন।
তিনি ও তার পরিবারের এই গুনের কারনে তৃণমূল ও সাধারণ জনগণের অকৃত্রিম ভালোবাসা নারায়ণপুর ইউনিয়নের তৃণমূলের রাজনীতিতে এখন বইছে মহিদুল ইসলামকে ঘিরে নতুন প্রত্যাশার সুর।মোঃ মহিদুল ইসলামের এই রাজনৈতিক ত্যাগী মনোভাব এবং মানবীয় গুনাবলির জন্য তার ইউনিয়নের সাধারন মানুষের সাধারণ মানুষের মনে এখন একটাই প্রতিধ্বনি—আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তারা মোঃ মহিদুল ইসলামকেই নারায়নপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চান।
এই বিষয়ে প্রবীণ রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও ১ নম্বর ওয়ার্ডের এক বর্ষীয়ান বিএনপি নেতা আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, “মহিদুল শুধু আমাদের দলীয় নেতা নন, বিপদ-আপদে পুরো ইউনিয়নের মানুষের অভিভাবক। তিনি রাজনীতিতে যেমন সততার পরিচয় দিয়েছেন, সমাজসেবায়ও তার হাত উদার। নারায়ণপুরে এমন একজন সৎ ও নিষ্ঠাবান মানুষকেই আমরা চেয়ারম্যান হিসেবে পেতে চাই।”
তৃণমূল সমীকরণ: চৌগাছা উপজেলার এক স্থানীয় যুবদল নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “নারায়ণপুর ইউনিয়নে সাধারণ মানুষের কাছে মহিদুল ভাইয়ের বিকল্প কোনো গ্রহণযোগ্য মুখ নেই। দীর্ঘদিনের ত্যাগী ও নির্যাতিত এই নেতাকে দল যদি যথাযথ মূল্যায়ন করে, তবে এই ইউনিয়নে ধানের শীষের বিজয় সুনিশ্চিত।”
রুমা বেগম নামে স্থানীয় এক নারী ভোটার বলেন, “গত ১৭টা বছর আমরা যখনই বিপদে পড়েছি, একমাত্র মহিদুল ভাই আর উনার পরিবারকেই পাশে পেয়েছি। কোনো স্বার্থ ছাড়া যিনি মানুষের সেবা করতে পারেন, তিনিই তো আমাদের সত্যিকারের জনপ্রতিনিধি।”
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নিজের প্রার্থিতা ও এলাকা কেন্দ্রিক পরিকল্পনা নিয়ে জানতে চাইলে জনাব মো: মহিদুল ইসলাম বলেন:
“আমার পুরো পরিবার বিএনপির আদর্শে বিশ্বাসী। আমার বাবা ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ছিলেন, যার জীবন গেছে এই স্বৈরাচারের অত্যাচারে। আমার ভাই উপজেলা বিএনপির দায়িত্বে রয়েছেন। বিগত ১৭ বছর যে অমানুষিক নির্যাতনের মধ্য দিয়ে আমরা গিয়েছি—বাড়ির সামনে ইটের দেয়াল তুলে আমাদের ১২ বছর বন্দি রাখা হয়েছে, দুবাইতে এবং বাংলাদেশে জেল খাটতে হয়েছে—তবুও আমরা শহীদ জিয়ার আদর্শ এবং দেশনায়ক তারেক রহমানের নির্দেশ থেকে একচুলও বিচ্যুত হইনি।আমাদের নারায়ণপুর ইউনিয়ন ভৌগোলিক ও অবকাঠামোগত দিক থেকে আজও অনেক পিছিয়ে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো সীমান্তসংলগ্ন হওয়ায় মাদক ও চোরাচালানের ভয়াল থাবা আমাদের উঠতি যুবসমাজকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। আমার মূল লক্ষ্য হবে এই এলাকাকে সম্পূর্ণ মাদক মুক্ত করা। পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, রাস্তাঘাট ও ব্রিজের আধুনিকায়ন এবং তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে আমি কাজ করতে চাই।
দল ও তৃণমূলের অভিভাবক জেলা বিএনপি যদি আমার ওপর আস্থা রেখে মনোনয়ন দেয়, তবে আমি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব। আমি বিশ্বাস করি, জনগণের সেবা করার যে অঙ্গীকার আমার রয়েছে, তা পালনে আমি বিন্দুমাত্র ত্রুটি করব না।”
দীর্ঘদিনের অত্যাচার, ত্যাগের সুদীর্ঘ ইতিহাস এবং সর্বস্তরের মানুষের সাথে নিবিড় জনসম্পৃক্ততা—সব মিলিয়ে আসন্ন নারায়ণপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে মো: মহিদুল ইসলাম এখন কেবল একজন প্রার্থী নন, বরং স্থানীয় জনগণের কাছে তিনি ন্যায়বিচার, উন্নয়ন ও নতুন সম্ভাবনার এক নির্ভরযোগ্য প্রতীক।