নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরের অভয়নগরে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পুলিশের ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় এবং বাড়িতে না থাকার জন্য হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মো. জব্বার শেখ নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের দাবি, নিজেকে প্রভাবশালী হিসেবে উপস্থাপন করে পুলিশের অভিযান ও গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে তিনি বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা দাবি করেছেন।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, কেউ টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে পুলিশ দিয়ে হয়রানি বা আটক করানোর ভয় দেখানো হয়। এমনকি কয়েকজনকে ফোন করে ‘পুলিশ আসবে’ জানিয়ে বাড়িতে না থাকার পরামর্শ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
অভিযোগকারীদের দেওয়া একটি অডিও কথোপকথন প্রতিবেদকের কাছে রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। ওই কথোপকথনে একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘ক্যাম্প পুলিশের কোনো খানা নেই, তোমরা কেউ বাড়িতে থেকো না। যশোর থেকে ডিবি পুলিশ ও থানা পুলিশের টিম তোমাদের আটক করবে।’ একই কথোপকথনে আরও কয়েকজনকে ফোন করে সতর্ক করার কথাও শোনা যায় বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
অভিযোগকারীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মো. জব্বার শেখ অভয়নগর উপজেলার সিংগাড়ী গ্রামের মৃত মুনতাস শেখের ছেলে। স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, অতীতে তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। ৫ আগস্টের পর প্রথমে এনসিপি এবং পরে বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করে নিজেকে বিএনপির কর্মী হিসেবে পরিচয় দিতে শুরু করেন, এমন অভিযোগও রয়েছে। জমি উদ্ধারের নামেও টাকা নেওয়ার অভিযোগ। জব্বার শেখের বিরুদ্ধে বিরোধপূর্ণ জমি উদ্ধার করে দেওয়ার কথা বলে অর্থ নেওয়ার আরও একটি অভিযোগ করেছেন এক ব্যক্তি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই ভুক্তভোগী বলেন, তাঁর ৬০ শতাংশ জমি উদ্ধার করে দেওয়ার কথা বলে জব্বার শেখ তাঁর কাছ থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা নিয়েছেন। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও জমি উদ্ধার করে দেওয়া হয়নি বলে তাঁর অভিযোগ। ভুক্তভোগীর দাবি, ওই সময় জব্বার নিজেকে এনসিপির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে পরিচয় দিতেন। ফলে বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। সিংগাড়ী গ্রামের ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতা অভিযোগ করেন, ৫ আগস্টের পর জব্বার শেখ রাতারাতি বিএনপির কর্মী পরিচয় দিয়ে দলের বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ বাড়ান। তাঁর বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করা এবং এর বিনিময়ে অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। ওই নেতা বলেন, জব্বারকে একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছে। ভবিষ্যতে তাঁকে দলীয় কোনো কর্মসূচিতে অংশ নিতে না দেওয়ার বিষয়েও স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। তবে এটি সংশ্লিষ্ট নেতার ব্যক্তিগত বক্তব্য; বিএনপির আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা দলীয় অবস্থান হিসেবে এটিকে বিবেচনা করা যাচ্ছে না।
অভিযোগের বিষয়ে মো. জব্বার শেখ বলেন, সবকিছু মিথ্যা ও বানোয়াট। আমি কাউকে ফোন করিনি এবং কাউকে পুলিশের ভয়ও দেখাইনি।
তবে অভিযোগকারীরা তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে দাবি করা একটি অডিও কথোপকথন প্রতিবেদকের কাছে দিয়েছেন। সেখানে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বাড়িতে না থাকার বিষয়ে কথোপকথনের অংশ রয়েছে বলে অভিযোগকারীদের দাবি।
স্থানীয় অভিযোগকারীরা এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, সত্যিই কেউ পুলিশের নাম ব্যবহার করে ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করে থাকলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে অডিও কথোপকথনের সত্যতা, কথোপকথনে উল্লিখিত ব্যক্তিদের পরিচয় এবং অর্থ লেনদেনের অভিযোগ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। সচেতন মহলের মতে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় ব্যবহার করে কাউকে ভয় দেখানো বা অর্থ আদায়ের অভিযোগ থাকলে বিষয়টি যথাযথভাবে তদন্ত করা জরুরি।