নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরের অভয়নগর উপজেলার আলোচিত বিন হাসানের বিরুদ্ধে বিদেশে পাঠানোর নামে ৩৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ঢাকার বনানী থানায় আরও একটি মামলা হয়েছে।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন দেশে ওয়ার্ক পারমিট ও ভিসা দেওয়ার কথা বলে ১৮ জনের কাছ থেকে ওই টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিন হাসানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বনানী থানায় করা মামলার নম্বর ০১, তারিখ ১ অক্টোবর ২০২৬।
মামলার বাদী যশোরের চৌগাছা উপজেলার বাজে পড়িঙ্গা গ্রামের মৃত নুর ইসলামের ছেলে আলমগীর হোসেন। এজাহারে বিন হাসান ওরফে আবুল হাসানসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। এজাহারের সঙ্গে বিভিন্ন নথিপত্রের ৪৬ পাতা সংযুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এজাহার সূত্রে জানা যায়, রাশিয়া, ডেনমার্ক, হাঙ্গেরি, নরওয়ে, ইতালি, গ্রিক সাইপ্রাস ও নর্থ মেসিডোনিয়াসহ বিভিন্ন দেশে ওয়ার্ক পারমিট ও ভিসা দেওয়ার কথা বলে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়। পরে নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা এবং একপর্যায়ে অফিস বন্ধ করে বিদেশে চলে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। বাদীর অভিযোগ, যশোরের অভয়নগর উপজেলার একতারপুর গ্রামের মৃত আমির আলী বিশ্বাসের ছেলে বিন হাসান (৩৯) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার প্রতিষ্ঠানের প্রচার-প্রচারণা দেখে বিদেশ যেতে আগ্রহী ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন। এরপর বিভিন্ন দেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা নেওয়া হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলায় ঢাকার ‘বিন হাসান হলিডেস’, ‘ইউরোভিশন ওভারসীজ’ ও ‘বিন হাসান এডুকেশন’-এর নামও উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, টাকা নেওয়ার পর প্রতিশ্রুত দেশে পাঠানো হয়নি। পরে ভুক্তভোগীরা যোগাযোগের চেষ্টা করলে নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হয় এবং একপর্যায়ে অফিস বন্ধ পাওয়া যায়। ভুক্তভোগীদের দাবি, বিন হাসান বিদেশে চলে যাওয়ায় তারা আর্থিকভাবে চরম ক্ষতির মুখে পড়েন। পরবর্তীতে তিনি দেশে ফিরেছেন বলে জানতে পারেন তারা। একই সময়ে প্রতারণার অভিযোগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে তার আটক হওয়ার খবরও জানতে পারেন ভুক্তভোগীরা। এরপর পাওনা টাকা ফেরত ও আইনগত প্রতিকার চেয়ে তারা মামলা করেন।
এর আগে গত ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার গুলশান থানায় বিন হাসানের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগে আরও একটি মামলা হয়। ওই মামলার নম্বর ২৮। মামলাটিতে আদালত তার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
নতুন মামলার বিষয়ে বিন হাসানের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও অন্য একটি মামলায় তিনি কারাগারে থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
মামলায় আনা অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে। ভুক্তভোগীরা তাদের অর্থ ফেরত এবং অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের পাশাপাশি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।