অভয়নগর প্রতিনিধি
শংকরপাশা ঘাটে অভিযান: দুই স্তুপে ৪২০.২ মেট্রিক টন সার না থাকার প্রমাণ, সদুত্তর দিতে পারেননি ইনচার্জ। যশোরের অভয়নগরে সরকারি ইউরিয়া সার পরিবহন, বিক্রি, পাচার কিংবা অন্যত্র গোপন মজুদের অভিযোগে আঃ মজিদ (৩৩) নামে এক ব্যক্তিকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। রোববার (৪ অক্টোবর) রাতে উপজেলার শংকরপাশা খেয়াঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে এ জরিমানা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবীর আনসারী। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও মামলার প্রসিকিউটিং অফিসার লাভলী খাতুন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার রাত ৯টার দিকে ভৈরব নদীর তীরবর্তী শংকরপাশা খেয়াঘাট এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় বিসিআইসির সঙ্গে সরকারি ইউরিয়া সার পরিবহনের চুক্তিবদ্ধ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স টোটাল শিপিং এজেন্সির দুটি স্তুপ পরিদর্শন করা হয়। অভিযানে ওই দুই স্তুপে ৪২০.২ মেট্রিক টন সরকারি ইউরিয়া সার না থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়। বিপুল পরিমাণ সরকারি সার কোথায় গেল—এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের খুলনা শাখা কার্যালয়ের ইনচার্জ আঃ মজিদ ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাছে সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি বলে কৃষি বিভাগ জানিয়েছে।
কৃষি বিভাগের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় লাইসেন্স, নিবন্ধন, আদালতের আদেশ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া সরকারি ইউরিয়া সার পরিবহন, বিক্রি, পাচার কিংবা অন্যত্র গোপন মজুদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কারণে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত সরকারি সার সংক্রান্ত বিধি লঙ্ঘনের দায়ে আঃ মজিদকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করেন। কৃষি বিভাগের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কৃষকদের জন্য বরাদ্দ সরকারি সার যাতে অবৈধভাবে অন্যত্র চলে যেতে না পারে, সে বিষয়ে নজরদারি আরও জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বিপুল পরিমাণ সার না থাকার ঘটনায় এর গন্তব্য ও ব্যবস্থাপনার সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হলে প্রকৃত ঘটনা আরও স্পষ্ট হতে পারে।
এ ঘটনায় সরকারি সার বিতরণ ও পরিবহন ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীলতা এবং মজুদের হিসাব-নিকাশ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।