নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের কর্মচারী আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে এক নারী রোগীর সঙ্গে অনৈতিক আচরণের অভিযোগে সংবাদ প্রকাশের পর এবার তার বিরুদ্ধে আরও একাধিক নারীকে হয়রানি ও অসামাজিক প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ সামনে এসেছে। এ নিয়ে হাসপাতালজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি ‘ডাক্তারের চেম্বারে রোগীর সাথে অনৈতিক কাজের অভিযোগ কর্মচারীর বিরুদ্ধে’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর হাসপাতালের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মচারীদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। বিশেষ করে নারী কর্মচারীদের মধ্যে এ ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
হাসপাতালের একাধিক কর্মচারীর অভিযোগ, আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন ধরনের আচরণের অভিযোগ থাকলেও নানা কারণে ভয়ে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতেন না। তবে একজন নারী রোগীর অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর এখন অন্যরাও তার বিরুদ্ধে নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা বলতে শুরু করেছেন। ভোরে হাসপাতালে আসা, কক্ষের চাবি নিয়েও অভিযোগ হাসপাতালের একাধিক কর্মচারীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আলমগীর প্রায়ই অন্য কর্মচারীদের আগে হাসপাতালে আসতেন। কখনো কখনো ভোরেও তাকে হাসপাতাল চত্বরে দেখা যেত বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন কর্মচারী। তাদের দাবি, বহির্বিভাগের ১২২ ও ১২৩ নম্বর কক্ষের চাবি তার কাছে থাকত। অভিযোগ রয়েছে, ওই চাবি দিয়ে কক্ষ খুলে তিনি হেল্প ডেস্কের ভেতরে অবস্থান করতেন। কর্মচারীদের অভিযোগ, এ সময় বিভিন্ন নারী পরিচ্ছন্নতাকর্মী চিকিৎসকের কক্ষ পরিষ্কার করতে গেলে আলমগীর তাদের দিকে অস্বস্তিকর দৃষ্টিতে তাকাতেন। কখনো কখনো তাদের বিভিন্ন ধরনের অসামাজিক প্রস্তাব দেওয়ারও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন নারী কর্মচারী। ভয়ে এড়িয়ে চলতেন অনেকেই’ হাসপাতালের কয়েকজন নারী কর্মচারী অভিযোগ করেন, আলমগীরের আচরণে তারা অনেক সময় অস্বস্তিতে পড়তেন। তার ভয়ে অনেকে তাকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করতেন। কিন্তু এড়িয়ে চলার পরও বিভিন্নভাবে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
একাধিক কর্মচারীর দাবি, বয়স্ক রোগী ও নারী সহকর্মীদের সঙ্গেও আলমগীরের আচরণ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। তবে চাকরি হারানো, কর্মক্ষেত্রে সমস্যা কিংবা অন্য কোনো ঝামেলায় জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় অনেকেই বিষয়গুলো প্রকাশ্যে আনেননি বলে তারা জানান।
তদন্তের দাবি, ব্যবস্থা না নিলে প্রতিবাদের হুঁশিয়ারি
নতুন করে একাধিক অভিযোগ সামনে আসায় হাসপাতালের নারী কর্মচারীদের মধ্যেও ক্ষোভ বাড়ছে। তাদের দাবি, অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করতে হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে নারী কর্মচারী ও রোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। কয়েকজন নারী কর্মচারী জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে তারা সম্মিলিতভাবে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যাওয়ার কথা বিবেচনা করছেন। তবে আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।