নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরের অভয়নগরে লন্ড্রি ব্যবসার আড়ালে ‘মরিঙ্গা গেইন’ নামের একটি পণ্য বিভিন্ন রোগের উপকারে আসে, এমন প্রচারণা চালিয়ে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগের পর পণ্য বিক্রির সময় এক যুবককে আটক করা হলেও পরে উপজেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তার উপস্থিতিতে মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার নওয়াপাড়া সরকারি হাসপাতাল সড়কসংলগ্ন পালস ডায়াগনস্টিকের পাশে ‘ভাই ভাই লন্ড্রি’ নামের একটি দোকানে।
স্থানীয়রা জানান, দোকানটিতে লন্ড্রির পাশাপাশি ‘মরিঙ্গা গেইন’ বিক্রি করছিলেন তালতলা এলাকার মো. জুবায়ের হোসেন (৩২)। এ সময় তার সঙ্গে মো. হুজাইফা শেখ (৩০) নামে আরও একজন ছিলেন।
স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদে জুবায়ের দাবি করেন, তিনি ফরিদপুর থেকে অনলাইনের মাধ্যমে প্রথমে এক ফাইল ‘মরিঙ্গা গেইন’ সংগ্রহ করেন। নিজে সেবনের পর উপকার পেয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। পরে পরিবারের কয়েকজন সদস্যকেও খাওয়ানোর পর তারাও উপকার পেয়েছেন—এমন দাবি করে পণ্যটি বিক্রি শুরু করেন।
তবে পণ্যটি ওষুধ বা স্বাস্থ্যপণ্য হিসেবে বিক্রি কিংবা বাজারজাতের জন্য প্রয়োজনীয় অনুমোদন, নিবন্ধন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্রের বিষয়ে তিনি কোনো সন্তোষজনক তথ্য দেখাতে পারেননি বলে স্থানীয়দের দাবি। দোকানে থাকা পণ্যের প্রচারপত্রে অ্যাজমা, ঠান্ডাজনিত অ্যালার্জি, সোরিয়াসিস, পাইলস, কোষ্ঠকাঠিন্য, ডায়াবেটিস, প্রস্রাবে সংক্রমণ, দুর্বলতা, হাড়ের ক্ষয়, রক্তস্বল্পতা ও জয়েন্টের ব্যথাসহ বিভিন্ন সমস্যায় কার্যকর হওয়ার দাবি করা হয়েছে। একই প্রচারপত্রে ভিটামিন, আয়রন ও ক্যালসিয়ামের ঘাটতি পূরণ এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর কথাও উল্লেখ রয়েছে। প্রচারপত্রে পণ্যটিকে ‘Ayurvedic proprietary Product’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি USDA, FDA, NSF ও GMP-এর স্বীকৃতি রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে। তবে এসব দাবির সত্যতা এবং বাংলাদেশে পণ্যটি ওষুধ বা স্বাস্থ্যপণ্য হিসেবে বিক্রি ও বাজারজাতের বৈধ অনুমোদন রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আসার পর কয়েকজন জুবায়েরকে আটক করে উপজেলা প্রশাসনকে খবর দেন। পরে উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবির আনসারী ঘটনাস্থলে গিয়ে দোকান ও সেখানে থাকা পণ্য পরিদর্শন করেন। এরপর জুবায়েরের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে স্থানীয়রা জানান।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, লন্ড্রির মতো একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চিকিৎসাসংক্রান্ত দাবি করা কোনো পণ্য বিক্রির অনুমতি ছিল কি না এবং পণ্যটির বাংলাদেশে সরকারি নিবন্ধন বা বাজারজাতের অনুমোদন রয়েছে কি না।
স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি শুধু মুচলেকার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য ও ওষুধ প্রশাসন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পণ্যটির উৎপাদক, সরবরাহকারী বা আমদানিকারক, উপাদান, নিবন্ধন, অনুমোদন এবং বাজারজাতকরণের বৈধতা যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রচারপত্রে বিভিন্ন রোগে কার্যকর হওয়ার যে দাবি করা হয়েছে, তার বৈজ্ঞানিক ও সরকারি ভিত্তি রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।