বিশেষ প্রতিনিধি, চৌগাছা (যশোর):
যশোরের চৌগাছা উপজেলার নারায়নপুর ইউনিয়নের গোয়াতলী গ্রামে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও পূর্বশত্রুতার জেরে মিঠু হোসেন নামে বিএনপির এক স্থানীয় কর্মীকে ‘ধর্ষণচেষ্টার’ মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে গত দুই বছর ধরে এলাকাছাড়া করার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের তথ্য মতে, মামলায় যে ধরনের অভিযোগ করা হয়েছে, সরেজমিনে তার সত্যতা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ১৬ মার্চ ২০২৫ তারিখ সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে গোয়াতলী গ্রামের সলেমান মণ্ডলের ছেলে মোঃ মিঠু হোসেন একই গ্রামের মোঃ আলী হোসেনের চতুর্থ শ্রেণীতে পড়ুয়া (৮ বছর) মেয়েকে পাশের একটি পেয়ারা বাগানে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। ওই ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে চৌগাছা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
তবে ঘটনার সত্যতা জানতে সরেজমিনে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে ভিন্ন চিত্র। এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং একটি মহল রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল ও প্রতিশোধের ভয় থেকে মিঠু হোসেনকে ফাসিয়েছে।
এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায়, মিঠু হোসেন ও তার পুরো পরিবার দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত। ২০১৪ সালে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের হামলায় মিঠু হোসেনের বাবা জনাব মোঃ সলেমান মণ্ডলের একটি চোখ চিরতরে নষ্ট হয়ে যায়। অভিযোগ রয়েছে, ইউনিয়নের ২নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড মেম্বার কামরুজ্জামান এবং বর্তমান মামলার বাদী মোঃ আলী হোসেন ওই হামলার মূল ইন্ধনদাতা ছিলেন। শুধু তা-ই নয়, বিএনপি করার অপরাধে বিগত ১৭ বছর ধরে মিঠুর বাবা ও চাচাদের বিরুদ্ধে একাধিক রাজনৈতিক মামলা দিয়ে তাদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়।
ঐতিহাসিক ৫ই আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গোয়াতলী বাজারে দাঁড়িয়ে মিঠু হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছিলেন, “সামনে বিএনপি ক্ষমতায় এলে আমার বাবার চোখ যারা নষ্ট করেছে, তাদেরও চোখ যাবে।” স্থানীয়দের মতে, মিঠুর এই বক্তব্যই তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়।
ভুক্তভোগী মিঠু হোসেন মুঠোফোনে জানান, “যেদিনের ঘটনার কথা বলা হয়েছে, সেদিন সকাল ৯টায় আমি বাসা থেকে খেয়ে ড্রাগন বাগানে কাজের উদ্দেশ্যে বের হই। দুপুর ১২টায় বাসায় খেতে এসে শুনি আমি নাকি আলীর মেয়েকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছি! ঘটনাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। তারা বিভিন্নভাবে আমার ও আমার বাবার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের জাল বুনছিল। আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর কোনো উপায় না পেয়ে তারা আমার বিরুদ্ধে এই ন্যক্কারজনক ঘটনার রটনা রটিয়ে মিথ্যা মামলা দেয় এবং আমাকে এলাকাছাড়া করে।”
নাম প্রকাশ না করার শর্তে নারায়ণগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির এক স্থানীয় কর্মী বলেন, “আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড মেম্বার কামরুজ্জামান এবং আলী হোসেন দীর্ঘদিন ধরে মিঠুর পরিবারের ওপর অত্যাচার চালিয়ে আসছে। ৫ই আগস্টের পর মিঠু যেন এলাকায় থেকে প্রতিশোধ নিতে না পারে বা তাদের ওপর কোনো ধাক্কা না আসে, সেই ভয়েই এই চক্রান্ত করে মামলা দেওয়া হয়েছে। এর বাইরে আর কিছুই নয়।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার বাদী মোঃ আলী হোসেন বলেন, “মিঠু আমার ৮ বছরের মেয়ের সাথে জোর-জবরদস্তি করেছে, এটা সত্য। তাই মামলা দিয়েছি। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে কোনো মামলা দিইনি।” তবে পূর্বে বিএনপির রাজনীতির কারণে মিঠুর পরিবারের ওপর হামলা চালানো বা চোখ নষ্ট করার বিষয়ে তার সম্পৃক্ততার কথা তিনি অস্বীকার করেন।
একটি স্পর্শকাতর অপরাধকে রাজনৈতিক ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে একজনকে দীর্ঘদিন এলাকাছাড়া করে রাখার ঘটনায় চরম ক্ষোভ ও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে পুরো নারায়নপুর ইউনিয়নে। স্থানীয় সচেতন মহল নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আসল সত্য উন্মোচনের জোর দাবি জানিয়েছেন।