অভয়নগর প্রতিনিধি
প্রাচীর ঘেঁষে চায়ের দোকানসহ নানা স্থাপনা, সংকুচিত প্রবেশপথ; নারী রোগী ও স্বজনদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ। যশোরের অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাশে সরকারি জায়গা দখল করে গড়ে উঠেছে চায়ের দোকানসহ একাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রাচীর ঘেঁষে এসব স্থাপনা নির্মাণের ফলে একদিকে সংকুচিত হয়ে পড়েছে হাসপাতালের প্রবেশপথ, অন্যদিকে রোগী ও স্বজনদের চলাচলে সৃষ্টি হচ্ছে নানা ভোগান্তি। বিশেষ করে নারী রোগী ও স্বজনদের নিরাপত্তা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকা নওয়াপাড়ায় অবস্থিত অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত ছাড়াও আশপাশের এলাকার অসংখ্য রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স, ইজিবাইক, ভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহনের চাপও থাকে নিয়মিত। এর মধ্যে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সীমানা ঘেঁষা সরকারি জায়গায় একের পর এক স্থাপনা গড়ে ওঠায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, সড়ক ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রাচীরের মাঝখানের সরকারি জায়গা দখল করে বেশ কয়েকটি চায়ের দোকানসহ বিভিন্ন স্থাপনা তৈরি করা হয়েছে। এসব দোকানে কেউ নিজে ব্যবসা করছেন, আবার কেউ অন্যের কাছে ভাড়া দিয়ে নিয়মিত অর্থ আদায় করছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী বলেন, “আমি তো এখানে কোনো জায়গা দখল করিনি। নিয়মিত মাসিক ভাড়া দিয়ে এখানে ব্যবসা করছি।” তবে কার কাছ থেকে তিনি জায়গা ভাড়া নিয়েছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি জায়গা দখল করে এসব স্থাপনা গড়ে উঠলেও তা উচ্ছেদে কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। ফলে দিন দিন দখলের পরিমাণ বাড়ছে। এদিকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রাচীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা দোকানগুলোতে বিভিন্ন সময় বখাটেদের আড্ডা বসে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এতে চিকিৎসা নিতে আসা নারী রোগী ও তাদের স্বজনদের অনেক সময় অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। হাসপাতালে ভর্তি এক রোগীর স্বজন রহিমা বলেন, রোগীর জন্য ওষুধ ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী আনতে দিন-রাত যেকোনো সময় হাসপাতালের সীমানার বাইরে যেতে হয়। প্রাচীর ঘেঁষা দোকানগুলোতে প্রায়ই বখাটেদের আড্ডা থাকে। তাই হাসপাতালের সীমানা থেকে বের হওয়ার পর নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সরকারি জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণের কারণে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রবেশপথও আগের তুলনায় সংকুচিত হয়ে পড়েছে। জরুরি মুহূর্তে অ্যাম্বুলেন্সসহ রোগী বহনকারী যানবাহন চলাচলেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
তাদের অভিযোগ, বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে চলে এলেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে না। দ্রুত সরকারি জায়গা দখলমুক্ত করে হাসপাতালের স্বাভাবিক পরিবেশ ও রোগীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এ বিষয়ে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলিমুন রাজীব বলেন, “স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সীমানার বাইরে হওয়ায় আমরা নিজেরা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করতে পারছি না। এ বিষয়ে প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশে সরকারি জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণের বিষয়টি প্রশাসনের নজরে থাকার পরও কেন দীর্ঘদিন ধরে তা উচ্ছেদ করা হচ্ছে না? দ্রুত তদন্ত করে সরকারি জায়গা দখলমুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।