এ আর নাহিদ (ঢাকা) ,বিশেষ প্রতিবেদক:
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূল পর্যায়ে একক প্রার্থী নিশ্চিত করতে বিএনপি অভ্যন্তরে শুরু হয়েছে ব্যাপক সাংগঠনিক তোড়জোড়। নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না থাকলেও যোগ্য প্রার্থী চূড়ান্ত করতে দলটির নীতিনির্ধারণী মহল থেকে ইতিমধ্যে চারটি সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রার্থী শূন্যতা এড়াতে বিকল্প প্রার্থী রাখার কৌশলী সিদ্ধান্তও নিয়েছে দলটি।
দলীয় সূত্র জানায়, নির্বাচনে বিজয়ী হতে পারে এমন যোগ্য মুখ খুঁজে বের করতে তৃণমূলকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে মূলত চারটি মানদণ্ডকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে:
১. ক্লিন ইমেজ (স্বচ্ছ ভাবমূর্তি),২. জনপ্রিয়তা ৩. দলের প্রতি ত্যাগ ও অবদান ৪. নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা। এছাড়া, দলের বাইরেও এলাকায় যদি কোনো সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি থাকেন এবং তার বিজয়ী হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা থাকে, তবে তাকে সমর্থন দিতেও আপত্তি নেই বলে তৃণমূলের শীর্ষ নেতাদের নীতিগত বার্তা দিয়েছে হাইকমান্ড।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু ও সমন্বিতভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় চার সদস্যবিশিষ্ট একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটির সদস্যরা হলেন:নজরুল ইসলাম খান — সদস্য, স্থায়ী কমিটি,রুহুল কবির রিজভী — ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব, মো. ইসমাঈল জবিউল্লাহ — সদস্য, স্থায়ী কমিটি, বেলায়েত হোসেন মৃধা — বিশেষ সম্পাদক।
কমিটির সদস্যরা গুলশানের কার্যালয়ে বসে মহানগর, জেলা, উপজেলা ও পৌরসভার শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে অনলাইনে 'জুম মিটিং' করছেন। চট্টগ্রাম, বরিশাল, খুলনা, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক সম্পন্ন করে মাঠপর্যায়ের প্রকৃত তথ্য সংগ্রহ এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। শিগগিরই বাকি বিভাগগুলোর নেতাদের সঙ্গেও জুম মিটিং শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়ার বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সমর্থন ও মতামতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। জনগণের সঙ্গে প্রার্থীর সম্পৃক্ততা, স্থানীয় পর্যায়ে গ্রহণযোগ্যতা এবং নেতাকর্মীদের সমর্থনের বিষয়টি বিবেচনা করেই ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতারা যোগ্য প্রার্থীকে সমর্থনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন।
বিএনপির নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, কোনো এলাকাতেই যেন শেষ মুহূর্তে দলীয় সমর্থিত প্রার্থীর শূন্যতা তৈরি না হয়, সে জন্য প্রতিটি এলাকায় বিকল্প প্রার্থী রাখার প্রস্তুতি রয়েছে। বিশেষ করে আইনি জটিলতা, রাজনৈতিক মামলা বা মনোনয়নপত্র বাতিলের মতো কোনো ঝুঁকি থাকলে একই এলাকায় একাধিক প্রার্থী মনোনয়ন জমা দেবেন। পরবর্তীতে মূল প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষিত হলে বিকল্প প্রার্থী তার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেবেন।
সব মিলিয়ে, কৌশলগত নানা পদক্ষেপের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নিজেদের একক ও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতেই এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন বিএনপির নীতিনির্ধারক ও মাঠপর্যায়ের নেতারা।