
নিজস্ব প্রতিবেদক
বাবা-মায়ের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ, মায়ের স্বীকারোক্তি, পলাতক বাবা গ্রেপ্তারে অভিযান
খুলনায় ১৬ বছর বয়সী কিশোরী আরফানা হোসেন নির্জনা হত্যাকাণ্ডে চাঞ্চল্যকর তথ্য উদঘাটনের দাবি করেছে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি)। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মেয়ের একাধিক প্রেমের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধের জেরে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করেন তার নিজের বাবা-মা। ঘটনার পর হত্যাকাণ্ডটি ভিন্নখাতে নিতে মরদেহ প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে নগরীর প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার একটি সড়কে ফেলে রাখা হয়। তবে ঘটনার মাত্র ৩৬ ঘণ্টার মধ্যেই তদন্তে পুরো রহস্য উন্মোচন করতে সক্ষম হয় পুলিশ। শনিবার সকালে কেএমপির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, নিহতের মা আরিফা ইয়াসমিন সিমা (৩৫)-কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। অপরদিকে, মামলার প্রধান আসামি নিহতের বাবা মো. আলিম হোসেন আকাশ এখনও পলাতক রয়েছেন এবং তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত ৮ জুলাই রাত ৯টার দিকে খুলনা সদর থানার প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার ৩ নম্বর সড়কে একটি প্লাস্টিকের বস্তার ভেতরে কিশোরীর মরদেহ পড়ে থাকার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। পরে মরদেহ উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় পিবিআই ও সিআইডিসহ একাধিক সংস্থা তদন্তে যুক্ত হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি প্রকাশ, বেতার বার্তা প্রচার এবং বিভিন্ন তথ্যসূত্র বিশ্লেষণের মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। নিহত নির্জনা সোনাডাঙ্গা থানার বসুপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তদন্তের একপর্যায়ে নির্জনার মা আরিফা ইয়াসমিন সিমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি প্রথমে বিভ্রান্তিকর তথ্য দিলেও পরে হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন।
পুলিশ জানায়, নির্জনার একাধিক ছেলের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে পরিবারে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা চলছিল। ঘটনার দিন এ বিষয় নিয়ে তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে বাবা লাঠি দিয়ে নির্জনার মাথায় একাধিক আঘাত করেন। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে বাবা-মা মিলে মরদেহ প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে প্রান্তিকা এলাকায় ফেলে রেখে ঘটনাটি আড়াল করার চেষ্টা করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহতের বাবা-মা উভয়ই এ ঘটনায় জড়িত থাকায় পুলিশ বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেছে। পলাতক বাবাকে গ্রেপ্তারের জন্য জোরালো অভিযান চলছে। এই মর্মান্তিক ঘটনা নগরীতে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং পারিবারিক সহিংসতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।