1. live@dailyjagrotobd.com : dailyjagrotobd.com dailyjagrotobd.com : dailyjagrotobd.com dailyjagrotobd.com
  2. info@www.dailyjagrotobd.com : - :
মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি ৭০০ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে  শিক্ষাখাতে ইতিহাসের সর্বোচ্চ বাজেট এবার: প্রধানমন্ত্রী অভয়নগরে সরকারি ইউরিয়া সার উধাও, ঠিকাদারি কর্মকর্তাকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা ইনুর ১০ বছরের সাজা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড চেয়ে আপিল চলিশিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মশিউর রহমান আটক চৌগাছা থানার ওসি মামুনকে ফাঁসাতে মিথ্যা অভিযোগ আওয়ামী লীগ নেতাকে ‘বিএনপি কর্মী’ সাজিয়ে পুলিশকে চাপে ফেলার চেষ্টা: চৌগাছায় বিতর্কের ঝড় খুলনায় সাত সকালে বিএনপি নেতাকে গুলি, সাবেক জামাইকে খুঁজছে পুলিশ ঘুষের টাকা না পেয়ে বিএনপি কর্মীকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ ওসি মামুনের বিরুদ্ধে  অভয়নগরের বিন হাসানের বিরুদ্ধে বনানী থানায় আরও এক প্রতারণা মামলা

বাঘুটিয়ায় আওয়ামীলীগ কর্মী সজীবের তাণ্ডব: বিএনপির একাংশের আশ্রয় ও পুলিশের নিষ্ক্রিয়তায় অতিষ্ঠ এলাকাবাসী

  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১১৪ বার পড়া হয়েছে

বিশেষ প্রতিনিধি, 

যশোরের অভয়নগর উপজেলার বাঘুটিয়া ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের সাবেক সক্রিয় কর্মী ও চিহ্নিত সন্ত্রাসী সজীব মোল্ল্যার অত্যাচার ও চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন সাধারণ মানুষ ও বিএনপির তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা। বিগত ১৭ বছর আওয়ামী লীগ সরকারের ক্ষমতার অপব্যবহার করে দাপিয়ে বেড়ানো এই ক্যাডার ৫ই আগস্টের পটপরিবর্তনের পর রাতারাতি বিএনপি কর্মী পরিচয়ে একই তাণ্ডব চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠে এসেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাঘুটিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক মো. হাবিবুর রহমানের ছেলে সজীব মোল্ল্যা বিগত সরকারের সময়ে যশোর জেলা ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী এবং যশোর এর তৎকালীন সংসদ সদস্য ও হুইপ ওহাবের বডিগার্ড ছিলেন। সে সময় তার অত্যাচারে ইউনিয়ন বিএনপির অনেক নেতা-কর্মী এলাকাছাড়া ও বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াতে বাধ্য হন।
অভিযোগ রয়েছে, ৫ই আগস্টের সরকার পতনের পর সজীব কৌশল বদলে ফেলেন এবং বিএনপি কর্মী সেজে বাঘুটিয়া এলাকায় নিজের আধিপত্য বজায় রাখেন। বর্তমানে তার চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও জমি দখলের অভিযোগে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন এলাকার সাধারণ মানুষ।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ১৮ অক্টোবর ২০২৪ ইং তারিখে সজীব মোল্ল্যা ও তার দলবল স্থানীয় হাসিকুল মোল্ল্যার কাছে ৪,০০,০০০ (চার লাখ) টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে হাসিকুলের চাচাতো ভাই কালাম মোল্ল্যাকে রাস্তায় ফেলে বিদেশি পিস্তল ঠেকিয়ে ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে প্রকাশ্যে বেদড়ক মারধর করা হয়। মুমূর্ষু অবস্থায় কালাম মোল্ল্যাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এই ঘটনায় কালামের বড় ভাই সালাম মোল্ল্যা বাদী হয়ে ২০/০৮/২৫ ইং তারিখে অভয়নগর থানায় মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে মামলা করার অপরাধে বাদীকে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় যুবদল নেতা জনি ও তার ভাই মনিরুলের বিরুদ্ধে, যা নিয়ে থানায় পৃথক লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
আওয়ামী লীগের একনিষ্ঠ ক্যাডার কীভাবে ক্ষমতার পালাবদলেও একইভাবে তাণ্ডব চালিয়ে যাচ্ছে—এমন প্রশ্নে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। তাদের অভিযোগ, বাঘুটিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইকরাম বিশ্বাসের সরাসরি ছত্রছায়াতেই সজীব এসব অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন। যদিও অভিযুক্ত সজীবের সাথে তার সাম্প্রতিক ছবি ও আশ্রয়ের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ইকরাম বিশ্বাস বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, “আমার কাছে সবাই সমান। কেউ ছবি তুলতে চাইলে আমি কী করব?”
অন্যদিকে, মামলার এতদিন পার হয়ে গেলেও আসামি সজীব এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং আওয়ামী লীগ পুনর্প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবুও পুলিশ তাকে গ্রেফতার করছে না। স্থানীয়দের দাবি, বাঘুটিয়া পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (আইসি) মো. জুয়েল সজীবকে গ্রেফতারে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না। ফাঁড়ির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আইসি জুয়েল ও তার পরিবারের আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক পটভূমি থাকার কারণেই তিনি সজীবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছেন না।
বাঘুটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জনাব তবিবুর রহমান চরম অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “সজীবের এই অপকর্মের বিষয়ে আমরা সেনাবাহিনী পর্যন্ত চিঠি দিয়েছি। সে আওয়ামী লীগের আমলে যা করেছে, এখনও তাই করছে। কিন্তু ফাঁড়ির আইসি জুয়েলকে বারবার বলা হলেও সে কোনো কর্ণপাত করে না। একজন আসামিও আজ পর্যন্ত তার হাতে ধরা পড়েনি।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক এক নেতা আক্ষেপ করে বলেন, “বিগত সরকারের আমলে সজীব ও তার বাবার অত্যাচারে আমরা ঘরে ঘুমাতে পারিনি। আর এখনো বিএনপির এক বড় নেতার আশ্রয়ে সে একই কাজ করছে। নিজেকে এখন বিএনপির কর্মী বলতে লজ্জা লাগে।”
অভিযোগের বিষয়ে সজীব মোল্ল্যার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের কথা অস্বীকার করে বলেন, “কালাম মোল্ল্যার সাথে আমাদের পারিবারিক জমিজমা নিয়ে দ্বন্দ্ব ছিল, তাই একটু মারধর করা হয়েছে।” আওয়ামী লীগের রাজনীতির বিষয়ে তিনি দাবি করেন, তিনি যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির সহকারী হিসেবে কাজ করতেন বলেই বাধ্য হয়ে মিছিল-মিটিংয়ে যেতেন।
গ্রেফতার না করার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাঘুটিয়া পুলিশ ফাঁড়ির আইসি জুয়েল বলেন, “আমি সজীবকে খুঁজে পাচ্ছি না। তাকে পেলেই গ্রেফতার করব। নিয়মের বাইরে তো কিছু করতে পারি না।”
সার্বিক বিষয়ে অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন। তিনি আশ্বাস দিয়ে জানান, দ্রুতই অভিযুক্ত সজীব মোল্ল্যাকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেওয়া হবে এবং ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আইসি জুয়েলের বিরুদ্ধে ওঠা গাফিলতির বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হবে।

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 ১২৩৪
৫৬৭৮৯১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট