
নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোর শহরে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগকে কেন্দ্র করে সংঘটিত এক সহিংস ঘটনায় শরিফুল ইসলাম জিতু (৩৫) নামে ১৯ মামলার এক আসামিকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। বুধবার (২২ জুলাই) রাত ১১টার দিকে শহরের বারান্দীপাড়া এলাকার ফুলতলা মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। তবে ভোরে ঢাকায় নেওয়ার পথে নড়াইলে পৌঁছালে অ্যাম্বুলেন্সেই তার মৃত্যু হয়। নিহত জিতু শহরের বারান্দীপাড়া মোল্লাপাড়া এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রাতে ফুলতলা মোড়ে দুর্বৃত্তরা জিতুকে কুপিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে রেখে যায়। পরে স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে কোতোয়ালি থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়।
এ ঘটনায় একই এলাকার সুমন মিয়া নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধেও ১১টি মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রাথমিকভাবে পুলিশ জানতে পেরেছে, সুমনের স্ত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা করতে গেলে জিতুর ওপর এই হামলা চালানো হয়। নিহতের বাবা সিরাজুল ইসলাম বলেন,
খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে দেখি আমার ছেলে আশঙ্কাজনক অবস্থায়। পরে ঢাকায় নেওয়ার পথে সে মারা যায়। যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. কাজী মাসুম রেজা জানান, রাত ১২টার দিকে জিতুকে হাসপাতালে আনা হয়। তার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় দ্রুত ঢাকায় রেফার করা হয়। যশোর কোতোয়ালি থানার ওসি মাসুম খান বলেন, এ ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি। ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ দেওয়া হবে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) মিরাজুল ইসলাম জানান,
“নিহতের বিরুদ্ধে ১৯টি মামলা রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে সুমনকে আটক করা হয়েছে। ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। যশোরের এই ঘটনাটি আবারও দেখিয়ে দিল, ব্যক্তিগত বিরোধ ও অপরাধমূলক অতীত কীভাবে সহিংসতায় রূপ নিতে পারে। পুলিশ বলছে, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।