
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার লালগোলায় চাঞ্চল্যকর এক অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে। মানসিক ভারসাম্যহীন এক বিধবা নারীর জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি ভাতা প্রায় ৩৯ মাস ধরে অন্য এক যুবকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রায় ৪০ হাজার রুপি আত্মসাৎ হয়েছে বলে দাবি করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। স্থানীয় সূত্র ও ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, লালগোলা ব্লকের পণ্ডিতপুর বাগানপাড়া এলাকার বাসিন্দা রেহেনা বিবি স্বামীর মৃত্যুর পর বিধবা ভাতার জন্য আবেদন করেছিলেন। আবেদন অনুমোদিত হলেও তার নিজস্ব ব্যাংক অ্যাকাউন্টে কখনোই সেই অর্থ জমা হয়নি।
প্রথমদিকে বিষয়টি আবেদন প্রক্রিয়ার ত্রুটি মনে করে পরিবার। পরে পুনরায় আবেদন করলেও কোনো পরিবর্তন না আসায় তারা ব্লক উন্নয়ন কর্মকর্তার (বিডিও) কার্যালয়ে খোঁজ নেন। সেখানেই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে—রেহেনার নামে বরাদ্দ ভাতার অর্থ দীর্ঘদিন ধরে একই এলাকার বাসিন্দা জাহাঙ্গির আলম নামে এক যুবকের অ্যাকাউন্টে জমা হচ্ছে। রেহেনার মেয়ের ভাষ্য, আমার মায়ের মানসিক অবস্থা ভালো নয়। বাবার মৃত্যুর পর তার জন্য ভাতার আবেদন করেছিলাম। কিন্তু এতদিনেও এক টাকাও পাইনি। পরে জানতে পারি, অন্য একজনের অ্যাকাউন্টে টাকা যাচ্ছে। ভুক্তভোগী পরিবার জানিয়েছে, বিষয়টি জানার পর তারা বিডিও কার্যালয়, থানা এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর সমাধান পাওয়া যায়নি।
পরিবারের দাবি, প্রাপ্য ভাতার পুরো অর্থ ফেরত দিতে হবে, কীভাবে এতদিন এমন অনিয়ম চলেছে, তা তদন্ত করতে হবে, দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। তবে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। প্রশ্ন এখন একটাই, প্রশাসনের নজর এড়িয়ে কীভাবে প্রায় তিন বছর ধরে এমন অনিয়ম চললো?
সূত্র: আনন্দবাজার