
নিজস্ব প্রতিবেদক
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার সম্ভুপুরা ইউনিয়নের চরহোগলা এলাকায় গভীর রাতে বাড়িতে ঢুকে সশস্ত্র হামলায় রাজু আহমেদ (৩৫) নামে এক যুবককে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় তার পরিবারের আরও চার সদস্য আহত হয়েছেন।
রোববার (২৬ জুলাই) রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। নিহত রাজু আহমেদ ওই এলাকার আয়নাল হকের ছেলে। নিহতের পরিবারের দাবি, রাজু আহমেদ একসময় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকলেও প্রায় তিন মাস আগে তিনি রাজনীতি থেকে সরে আসেন। এ নিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতা শাহাদাত প্রধানের সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়। পরিবারের অভিযোগ, সেই বিরোধের জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।
স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানা যায়, ঘটনার কিছুক্ষণ আগে রাজুর ফুফাতো ভাইয়ের সঙ্গে স্থানীয় নুরুল ইসলাম ও জাকির হোসেনের কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। পরিস্থিতি শান্ত করতে এগিয়ে আসেন রাজু। কিন্তু পরে প্রতিপক্ষের লোকজন ১৫–২০ জনের একটি দল নিয়ে দেশীয় অস্ত্রসহ রাজুর ফুফাতো ভাইকে খুঁজতে বের হয়। তাকে না পেয়ে তারা সরাসরি রাজুর বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা রাজুকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। তাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তার মা ও পরিবারের অন্য সদস্যরাও হামলার শিকার হন। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা রাজুসহ আহতদের উদ্ধার করে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মোহাম্মদ রুহুল আমিন জানান,
রাত ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে রাজুকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। তার পেটে ধারালো অস্ত্রের গভীর আঘাতের চিহ্ন ছিল। সোনারগাঁ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন বলেন,
ঘটনাটি রাজনৈতিক নাকি পারিবারিক বিরোধের জেরে ঘটেছে, তা তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর পুরো চরহোগলা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে এবং দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি উঠেছে।