
নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর আদাবরে প্রেমিকাকে চারদিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে এক ফটোগ্রাফারসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় আদালত গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশকে তদন্ত করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
সোমবার (২৭ জুলাই) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৫-এর বিচারক মো.মনিরুজ্জামানের আদালতে মামলাটি করেন ভুক্তভোগীর বড় বোন রাজিয়া সুলতানা। বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেন।
মামলার আসামিরা হলেন, ফটোগ্রাফার নামিম আশরাফ মনি (৩৭), তার বাবা আশরাফউদ্দিন এবং মা শাহনাজ বেগম। মামলার অভিযোগে বলা হয়, নিহত সাদিয়া ইয়াসফিয়া (২৪) পেশায় একজন মেকআপ আর্টিস্ট ছিলেন। ২০২৪ সালে একটি প্রোগ্রামের শুটিংয়ের সময় নামিম আশরাফের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন শুটিংয়ে একসঙ্গে কাজ করতে গিয়ে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং তা প্রেমে রূপ নেয়। একপর্যায়ে তারা বিয়ের বিষয়ে আলোচনা শুরু করেন এবং উভয় পরিবার বিষয়টি জানতে পারে। এর ধারাবাহিকতায় গত ৬ জুন সাদিয়ার পরিবার বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে গেন্ডারিয়ার ঢালকানগর এলাকায় আসামির বাসায় গেলে নামিমের বাবা-মা প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। এমনকি এ সম্পর্ক এগিয়ে নিলে বিপরীত ফল হবে বলে হুমকিও দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
এরপর গত ১০ জুন রাতে নামিম আশরাফ কৌশলে সাদিয়াকে আদাবরের শেখেরটেক-১২ নম্বর রোডের একটি ভবনের দ্বিতীয় তলায় তার স্টুডিও ফ্ল্যাটে নিয়ে যান। সেখানে নিয়ে গিয়ে সাদিয়াকে জোর করে পরিবারের কাছে বলতে বাধ্য করা হয় যে তিনি বান্ধবীর বাসায় অবস্থান করছেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ১০ জুন থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত চারদিন ওই ফ্ল্যাটে আটকে রেখে সাদিয়ার ওপর ধারাবাহিকভাবে ধর্ষণ চালানো হয়। পরে ১৪ জুন তাকে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। ঘটনার পর আসামি নামিম এটিকে আত্মহত্যা হিসেবে প্রচার করার চেষ্টা করেন বলেও উল্লেখ রয়েছে। বাদীর দাবি, পুলিশের সুরতাল প্রতিবেদনে ভুক্তভোগীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ও ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। এসব তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই আদালত মামলাটি গ্রহণ করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা এবং তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে এখন জনমনে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।