
নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরের অভয়নগর উপজেলার রাজঘাট সাভারপাড়া এলাকায় বহুরূপী প্রতারণা, চাঁদাবাজি ও ভয়ভীতির রাজত্ব কায়েম করেছেন কথিত রাজনৈতিক নেতা মিন্টু খান। দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা আত্মসাত ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। ফলে এলাকার সাধারণ মানুষ চরম আতঙ্ক ও অসহায়ত্বের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাভারপাড়া গ্রামের মৃত কেরামত খানের ছেলে মিন্টু খান প্রায় ১৭ বছর ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগিয়ে তিনি এলাকায় একটি শক্তিশালী প্রভাব বলয় তৈরি করেন। অভিযোগ রয়েছে, এই প্রভাবকে ব্যবহার করে তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অজুহাতে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করে আসছেন। এলাকাবাসীর দাবি, কেউ চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে রাতের আঁধারে লোকজন দিয়ে তুলে নিয়ে গিয়ে মারধর করা হতো। এমন একাধিক ঘটনার অভিযোগ থাকলেও ভয়ে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পেতেন না। অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, পলাতক আওয়ামী লীগ নেতা ও নওয়াপাড়া পৌরসভার সাবেক মেয়র সুশান্ত কুমার শান্তর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন মিন্টু খান। তার এই রাজনৈতিক যোগাযোগকে কাজে লাগিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় এক ধরনের ‘অপ্রকাশ্য আধিপত্য’ বজায় রাখেন তিনি। এদিকে, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মিন্টু খান দল পরিবর্তন করে বর্তমানে বিএনপির পরিচয়ে চলাফেরা করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। ফলে ভুক্তভোগীরা টাকা ফেরত চাইতে গেলে নতুন রাজনৈতিক পরিচয়ের ভয় দেখানো হয় বলে অভিযোগ করেন অনেকে।
ভুক্তভোগী নজরুল ইসলাম জানান, ২০২৪ সালের ১৯ নভেম্বর মিন্টু খান আমার কাছ থেকে ৩ লাখ ১৪ হাজার টাকা ধার নেয় এক মাসের মধ্যে ফেরত দেওয়ার শর্তে। কিন্তু আজও সে টাকা ফেরত দেয়নি। এখন টাকা চাইলে নানা অজুহাত দেখায়, কখনো আবার রাজনৈতিক পরিচয় দিয়ে ভয় দেখায়।
এমন অভিযোগ শুধু নজরুল ইসলামের একার নয়, স্থানীয় আরও অনেকেই একই ধরনের প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেছেন। কেউ জমি সংক্রান্ত সহায়তার কথা বলে, আবার কাউকে ব্যবসায়িক লাভের আশ্বাস দিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মিন্টু খান নিজের অপকর্মের আংশিক স্বীকারোক্তি দিয়ে বলেন, নজরুল ইসলামের টাকা আমি ফেরত দেবো, তবে কিছু সময় লাগবে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এলাকাবাসী ও সচেতন নাগরিক সমাজ দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে মিন্টু খানের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এ ধরনের প্রতারকদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও আস্থা আরও হুমকির মুখে পড়বে।
স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপই পারে এই প্রতারণা ও ভয়ভীতির চক্র ভেঙে দিতে।