
নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরের অভয়নগরে পারিবারিক কলহের জেরে মেয়ের আঘাতে মায়ের মৃত্যুর মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। নিহতের নাম সাহানা বেগম (৬১)। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মেয়ে শিরিনা খাতুনকে (২০) থানা হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার ভাঙ্গাগেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত সাহানা বেগম বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার ময়দানহাট্রা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে অভয়নগরের ভাঙ্গাগেট এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন। তার সঙ্গে মেয়ের পারিবারিক বিরোধ চলছিল বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
ঘটনার দিন শনিবার দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে মা-মেয়ের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। অভিযোগ রয়েছে, রাগের মাথায় শিরিনা খাতুন একটি সিল (পেষণী/নোড়া) দিয়ে মায়ের মাথা ও মুখে একাধিক আঘাত করেন। এতে সাহানা বেগম গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই অচেতন হয়ে পড়েন।
পরে বাড়ির মালিকের স্ত্রী ডলি খাতুন তাকে উদ্ধার করে দ্রুত অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দেন এবং অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন। তবে অ্যাম্বুলেন্সে তোলার আগেই হাসপাতালেই তার মৃত্যু হয়।
অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. মরিয়ম মুনমুন বলেন, “গুরুতর আহত অবস্থায় এক নারীকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তার অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন ছিল। উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করা হলেও নিয়ে যাওয়ার আগেই তিনি মারা যান। অভয়নগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নুরুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে দ্রুত পুলিশ পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত মেয়েকে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে পারিবারিক কলহের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বর্তমানে নিহতের মরদেহ অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন ও দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এদিকে এমন মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা পারিবারিক বিরোধের এমন ভয়াবহ পরিণতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।