
নিজস্ব প্রতিবেদক
নড়াইল সদর সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে কর্মরত চেইনম্যান মোঃ সবুর শেখ (কামাল)-এর বিরুদ্ধে ভয়ংকর ঘুষ বাণিজ্য ও প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, প্রভাবশালী পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করলেও কাজের ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছেন না তিনি। অনুসন্ধানে জানা গেছে, অভিযুক্ত সবুর শেখ নিজেকে ভূমি মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও সচিবদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকেন। এ পরিচয়ের সুযোগ নিয়ে জমি সংক্রান্ত জটিলতা দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ আদায় করেন। অভিযোগ রয়েছে, কাজ না হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে তিনি টাকা ফেরত দিতেও বাধ্য হয়েছেন, যা তার প্রতারণামূলক কার্যক্রমেরই প্রমাণ হিসেবে দেখছেন ভুক্তভোগীরা। এমনই এক ভুক্তভোগী যশোরের অভয়নগর উপজেলার সিংগাড়ী গ্রামের বাসিন্দা মোঃ হাফিজ মোল্লা। তিনি অভিযোগ করে বলেন, নড়াইল সদর উপজেলার সিংগাশোলপুর মৌজায় তার ক্রয়কৃত ৬০ শতাংশ জমি দখলে নিতে সমস্যায় পড়েন। এ সময় ভূমি অফিসে গিয়ে পরিচয় হয় পিয়ন পরিচয়ে কর্মরত সবুর শেখ (কামাল)-এর সঙ্গে। তিনি জমি দখল বুঝিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে দেড় লাখ টাকা দাবি করেন। ভুক্তভোগীর ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুন মাসে সরল বিশ্বাসে তিনি ১ লাখ ২০ হাজার টাকা প্রদান করেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও প্রতিশ্রুত কাজ সম্পন্ন হয়নি। পরবর্তীতে স্থানীয় এক সাংবাদিকের মাধ্যমে চাপ প্রয়োগ করলে সবুর শেখ ৫০ হাজার টাকা ফেরত দেন, তবে বাকি ৭০ হাজার টাকা এখনো ফেরত দেননি। উল্টো টাকা চাইতে গেলে প্রাণনাশের হুমকি ও বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও করেছেন হাফিজ মোল্লা।
এ বিষয়ে স্থানীয় সাংবাদিক স্বপন কুমার জানান, ভুক্তভোগীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনি অভিযুক্তের সঙ্গে কথা বলে আংশিক টাকা ফেরত দিতে সক্ষম হন। তবে বাকি অর্থ ফেরতের বিষয়ে একাধিকবার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে চেইনম্যান মোঃ সবুর শেখ (কামাল) মুঠোফোনে বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। আপনি সরাসরি আমার সঙ্গে এসে কথা বলুন। অন্যদিকে, নড়াইল সদর সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে. এইচ. তাসফিকুর রহমান বলেন, ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগ দিলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, ভূমি অফিসকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে এমন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠলেও কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে তা বন্ধ হচ্ছে না। দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।